
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময় কিংবা সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনীতির মাঠে যে অস্থিরতা ও মতবিরোধের সঞ্চার হয়েছে, তা গণতন্ত্রের পরিপক্বতার জন্য শুভ নয়। এ সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা দেখানো এবং রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে সংলাপের টেবিলে ফিরে আসা।
গণতন্ত্র কোনো একক দলের অর্জন নয়, বরং এটি জনগণের অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত চেষ্টার ফল। একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয় ঠিকই, কিন্তু সেই সরকারের স্থায়িত্ব ও সাফল্য নির্ভর করে বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও। তাই ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় পক্ষেরই কর্তব্য— জনস্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা।
এখানে সাধারণ নাগরিকদেরও ভূমিকা অনস্বীকার্য। সমাজে গুজব, উসকানি বা বিভাজন সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের স্থান নেই। নাগরিকদের উচিত সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকা— ভোটাধিকার প্রয়োগ করা, মত প্রকাশ করা, তবে তা যেন আইন ও শালীনতার সীমার মধ্যে থাকে। কারণ জনগণের পরিপক্বতা ছাড়া কোনো গণতন্ত্রই টেকসই হতে পারে না।
আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া ও জাতীয় ঐক্যের চেতনা। সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই উচিত দেশের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া— যেখানে থাকবে না প্রতিহিংসা, থাকবে না অহংকার। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র হতে হবে সুশাসন, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার।
আমরা বিশ্বাস করি, সংলাপ ও সহনশীলতার সংস্কৃতি ফিরে এলে রাজনীতি আবারও জনমুখী ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে। সময় এসেছে বিভেদের রাজনীতি নয়, ঐক্যের রাজনীতি করার— যাতে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়, গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত হয়, আর দেশ এগিয়ে যায় শান্তি, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথে।