
সাম্প্রতিক সময়ে সারাবিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা এবং তীব্রতা বাড়ছে। আগামী দশকগুলোতে বিশ্ববাসীকে যে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ যে সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে তা হলো বন্যা, খরা,
জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙ্গন, সাইক্লোন, টর্নেডো প্রভৃতি। এই সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রকৃতি সংরক্ষণের কৌশলগুলো আমাদের জানতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের অজান্তে আমরা যে ভুলগুলো করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত সেই সম্বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে ।
জলবায়ু হলো কোনো স্থানের আবহাওয়ার উপাদানগুলোর ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় অবস্থা। বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহের দিক ও গতি, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত প্রভৃতি হলো আবহাওয়ার উপাদান। আবহাওয়ার উপাদানসমূহের তারতম্যের পরিমাপের সময়কাল এক দশক থেকে সহস্র বছর পর্যন্ত হতে পারে এবং এর ব্যাপ্তি একটি ক্ষুদ্র অঞ্চল থেকে বিশ্বব্যাপীও হতে পারে।
তাই জলবায়ু পরিবর্তন হলো কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকার দীর্ঘমেয়াদে আবহাওয়ার পরিবর্তন। আমরা জানি, প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী প্রতিদিন পৃথিবীতে যে সূর্যকিরণ পৌঁছায় ভূ-পৃষ্ঠ তা শোষণ করে। শোষিত সূর্যকিরণ আবার মহাশূন্যে বিকিরিত বা প্রতিফলিত হয়। প্রকৃতির এই শোষণ ও বিকিরণের নিয়মে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলেই জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে। পৃথিবীর জলবায়ু অতীতেও পরিবর্তিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পরিবর্তিত হবে বলে জলবায়ু বিজ্ঞানীগণ আশঙ্কা করছেন।
জলবায়ু পরিবর্তন হয়ে থাকে মূলত পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নামে পরিচিত। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় বহুবিধ কারণে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আমাদের চারপাশে অতিমাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি হতে দেখখছি, রাস্তা ঘাটে যানবাহনের অদগ্ধীভূত কার্বন যেমন- কার্বন মনো-অক্সাইড (CO), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2) প্রভৃতি নির্গত হয়ে দূষণ সৃষ্টি করছে ,
তেজস্ক্রিয় দূষণ যেমন- ১৯৮৬ সালে রাশিয়ার চেরনোবিল পরিমানবিক দুর্ঘটনা, শিল্পকারখানার নির্গত ধোঁয়া ও বিষাক্ত বর্জ্য এবং শিল্পোন্নত দেশগুলোর অতিমাত্রায় শিল্পায়ন। অপরিকল্পিতভাবে বনভূমি উজাড় অথবা বনভূমি এলাকায় বিস্তৃত দাবানল।মানুষের বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য প্রস্তুতকৃত সামগ্রী (যেমন- এয়ার কন্ডিশনার, প্রসাধন সামগ্রী, প্লাস্টিক সামগ্রী)। জনসংখ্যার অতিরিক্ত বৃদ্ধি ও অসম বন্টন। ওজোন স্তর ক্ষয় হয়ে সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবী পৃষ্ঠে পৌঁছানো। কৃষিক্ষেত্রে অতিমাত্রায় সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পানি দূষিত হয়ে ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। ফসলের অবশিষ্টাংশ পচন ও ধানক্ষেত থেকে উদ্ভূত মিথেন। সূর্যের শক্তি উৎপাদনের হ্রাস-বৃদ্ধি (এ হ্রাস-বৃদ্ধি নির্ভর করে সৌরদীপ্তি চক্র বা Sunspot Cycle এর উপর । আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণ।