
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের কেওড়াতলার তরুণ চাষি মারুফ সরদার এখন গলদা চিংড়ি চাষে সাফল্যের রোল মডেল। একসময় যিনি মাছ চাষে অভিজ্ঞ ছিলেন না, তিনি আজ পরিশ্রম, ধৈর্য আর আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগে নিজ ভাগ্য বদলে ফেলেছেন এবং এলাকার অন্য চাষিদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।
মারুফ সরদারের ১২০ শতক আয়তনের ঘেরে এবার উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৮৫০ কেজি গলদা চিংড়ি—অর্থাৎ শতকে সাত কেজিরও বেশি। পাশাপাশি সাদা মাছ বিক্রি করে তিনি অর্জন করেছেন প্রায় ৭০ হাজার টাকা। যেখানে এলাকার গড় উৎপাদন শতকে তিন থেকে চার কেজি, সেখানে মারুফের ঘের এখন সাফল্যের নতুন মানদণ্ড।
প্রথম দিকে ঘেরের গভীরতা কম থাকায় বৃষ্টির সময় তলিয়ে যেত, উৎপাদনও হত খুব কম। কিন্তু এখন তিনি উন্নত সনাতন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করছেন। ঘেরের গভীরতা প্রায় পাঁচ ফুট, পাড়ের প্রস্থ পাঁচ ফুটেরও বেশি এবং পুরো ঘের নেট দিয়ে ঘেরা। এতে পানি ও মাছের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে।
তিনি নিয়মিত ঘেরে চুন, প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক ব্যবহার করেন, মানসম্মত পোনা ছাড়েন এবং ভালো মানের ফিড প্রয়োগ করেন। উপজেলা মৎস্য অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ঘেরের পরিচর্যা করেন।
মারুফ সরদার বলেন, “আগে ঘের ব্যবস্থাপনা ঠিকভাবে জানতাম না। এখন নিয়মিত পানি পরীক্ষা, ঘেরের গভীরতা বাড়ানো, ভালো মানের পিএল ও ফিড ব্যবহার—এসব মেনে চলায় উৎপাদন বেড়েছে। মৎস্য অফিসের পরামর্শই আমার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।”
এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, “মারুফ সরদার একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সচেতন চাষি। তিনি নিয়মিত অফিসে এসে পরামর্শ নেন এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এই বছর তিনি দুইটি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তার সাফল্য অন্যান্য চাষিদের জন্য অনুকরণীয়।”
বর্তমানে মারুফ সরদারের ঘের স্থানীয়ভাবে ‘নমুনা ঘের’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তার সফলতার গল্প রুদাঘরা ও আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে অন্য চাষিরাও তার পথ অনুসরণ করে আধুনিক পদ্ধতিতে গলদা চাষে এগিয়ে আসছেন।
ডুমুরিয়ার মাটি ও পানির উপযোগী পরিবেশে মারুফ সরদারের এ সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত নয়—এটি স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তার জীবনপ্রবাহ প্রমাণ করছে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিশ্রম থাকলে গ্রামীণ মানুষও হতে পারেন সফল উদ্যোক্তা।