
খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার রূপসা উপজেলার ২ নম্বর শ্রীফলতলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের নবগঠিত কমিটি নিয়ে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কমিটিতে বিতর্কিত বা ফ্যাসিস্ট পরিচিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনিয়নের পালেরহাট বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, “১৮ নভেম্বর ঘোষিত কমিটি ইউনিয়নের বাইরে গোপনে বৈঠক করে গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত ও ফ্যাসিস্ট পরিচিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি সংগঠনের নীতি ও ঐতিহ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”
রূপসা থানা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান শেখ বলেন, “ফ্যাসিস্টদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি ইউনিয়নের আদর্শ ও নীতির পরিপন্থী। আমরা জেলা নেতৃত্বের কাছে দাবি জানাচ্ছি, নবগঠিত কমিটি বাতিল করে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রকৃত ত্যাগী ও নিয়মিত কর্মীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।”
ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সদস্যসচিব আবু জাফর দাদা বলেন, “প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি শ্রমিকদের আস্থা নষ্ট করছে। স্থানীয় নেতারা বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না হলে বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনসহ বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে হবে।”
ইটভাটা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নাসির ফকির বলেন, “কমিটি বাতিল না হলে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠন না হলে আমরা ইউনিয়নের শ্রমজীবী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি গ্রহণ করব। এটি শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য অপরিহার্য।”
শ্রীফলতলা ইউনিয়ন শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা। এখানে শ্রমিক দলের সংগঠন বহু বছর ধরে ত্যাগী নেতাদের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে। স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সরাসরি মতামত ও কর্মী সমর্থন ছাড়া গোপনে কমিটি গঠন করলে আন্দোলনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
বক্তারা সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “নবগঠিত কমিটি বাতিল না হলে, ইউনিয়নের শ্রমজীবী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শ্রমিক সংগঠনকে কার্যকর, শক্তিশালী এবং নিরাপদ রাখা।”