
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইলের নড়াগাতী থানার বাঐসোনা ইউনিয়নে গাছ কেনাবেচা নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে ইমদাদ শেখ (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ী কুপিয়ে নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইউনিয়নের যোগানিয়া আমতলা এলাকায় তাঁর ওপর হামলা হয়। নিহত ইমদাদ শেখ ডুমুরিয়া গ্রামের সিরাজুল শেখের ছেলে।
এলাকাবাসী জানান, চর ডুমুরিয়ার ব্যবসায়ী সোহাগের সঙ্গে ইমদাদ শেখের গাছের লেনদেন নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে বিরোধ চলছিল। কয়েক দিন আগে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। বিরোধ মেটাতে সোমবার বিকেলে বাঐসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চুল্লু শেখ তাঁর যোগানিয়া বাজার–সংলগ্ন ব্যক্তিগত অফিসে দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশ ডাকেন। উপস্থিতরা জানান যে সালিশের পুরো সময় উত্তেজনা ছিল প্রবল, এবং দুপক্ষই একে অপরকে দায়ী করায় সমাধান সম্ভব হয়নি।
সন্ধ্যা নাগাদ সালিশ ভেঙে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সালিশস্থল থেকে একটি পক্ষ যোগানিয়া বাজারের দিকে দৌড় দিলে অপর পক্ষ তাঁদের ধাওয়া করে আমতলায় গিয়ে ধরে ফেলে। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি থামাতে গিয়ে কয়েকজন স্থানীয়ও আহত হন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
সংঘর্ষের সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমদাদ শেখকে কোপায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে গোপালগঞ্জ ২৫০–শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নড়াগাতী থানার সঙ্গে সমন্বয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে নড়াগাতী থানার ওসি আশিকুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি—গাছ কেনাবেচা নিয়ে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। সালিশ ভেঙে ফেরার পথে হামলার ঘটনাটি ঘটে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে অভিযান চলছে। খুব দ্রুতই গ্রেপ্তার সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।”
হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যোগানিয়া আমতলা ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, সালিশে সমস্যা মিটবে এমন আশা ছিল, কিন্তু উল্টো সালিশ থেকে বেরোতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।