
শেখ নাসির উদ্দিন, খুলনা
বাউলশিল্পীদের আধ্যাত্মিকতার নামে ইসলামবিরোধী অপপ্রচার, নাস্তিকতা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি ও ঢাকা গাউসিয়া মার্কেট জামে মসজিদের খতীব মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহ্ইয়া বলেছেন— “ধর্মের অপব্যাখ্যা, খোদাদ্রোহী বক্তব্য এবং নাস্তিকতার সাফাই গাওয়া কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে খুলনার পিকচার প্যালেস মোড়ে জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশ, খুলনা মহানগর শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
সম্প্রতি বাউলশিল্পী আবুল সরকারের প্রকাশ্য নাস্তিকতাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা এবং ইসলামবিরোধী বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সমালোচিত ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহ্ইয়া।
তিনি বলেন, “নাস্তিকতা ও ধর্মবিদ্বেষের পক্ষে দাঁড়িয়ে ফরহাদ মজহার শুধু আইন লঙ্ঘনই করেননি, বরং দেশের কোটি মুসলমানের অনুভূতিকে উপহাস করেছেন। ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে ইসলামকে হেয় করার যে দুঃসাহস তিনি দেখাচ্ছেন, তা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া বন্ধ করা সম্ভব নয়।”
বাউলশিল্পী আবুল সরকারের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “নাস্তিকতাকে ধর্মীয় যুক্তি হিসেবে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে। জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশ এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেবে না।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান— “ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে দেশব্যাপী ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় থাকে। দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, “ধর্ম, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার নামে কেউ যেন বিভ্রান্তি ও উসকানি ছড়াতে না পারে—এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ইমাম পরিষদ খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি মুফতী জাকির হুসাইন এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মুফতী রকিব উদ্দিন। এ ছাড়া মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মুফতী মানযুর আহমাদ, মুফতী শফিকুল ইসলাম, মুফতী জুনাইদ আহমাদ, মুফতী সৈয়দ খলিলুল্লাহ, মুফতী মুঈনুল ইসলাম, মুফতী হুমায়ূন কবীর, মুফতী আবদুল্লাহ মুখতার, মুফতী আবদুল মালেক, মুফতী নাজিম উদ্দিন, মুফতী মাসহুদুর রহমান, শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালসহ বিভিন্ন থানার প্রতিনিধি, ইমাম, খতীব ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।