1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলে নবগঙ্গা সেতুর কাজ থমকে, দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরমে তেরখাদায় দুর্গাপূজা ঘিরে পুলিশের মতবিনিময় সভা, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা তেরখাদায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, সহনশীল দেশ গড়ার আহ্বান খুলনার জিরো পয়েন্টে বাসে তল্লাশি, ৬ কেজি ৫৯৭ গ্রাম আইস উদ্ধার সাজমীর হত্যা মামলায় এসআরবি-৬-এর অভিযানে দুই আসামি গ্রেপ্তার রূপসায় ইটভাটা ব্যবসায়ী ফখরুল হত্যা মামলার আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার বড়দিয়া বাজার রক্ষায় উদ্যোগ, ভাঙন প্রতিরোধে শুরু হচ্ছে জরুরি কার্যক্রম খুলনার একাধিক হত্যা মামলার আসামি ওসমান পাবনায় গ্রেপ্তার সুন্দরবনে জলদস্যুদের আস্তানায় অভিযান, ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার বড়দিয়া বাজারে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন ইউএনওর, ১৬ ব্যবসায়ীকে সহায়তা ও জিওব্যাগ ফেলার নির্দেশ

ডুমুরিয়ার সরিষা ক্ষেতে মৌবাক্স, ফুলের রেণুতে ভর করে মধু সংগ্রহ

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৪৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া (খুলনা)

ডুমুরিয়ার গ্রামবাংলা এখন হলুদ সরিষার ফুলে ছেয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ফুটে থাকা সরিষা ফুল যেন প্রকৃতির উৎসব। এই হলুদ প্রান্তরের মাঝেই সারি সারি করে বসানো হয়েছে শত শত মৌবাক্স। সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি ছেড়ে মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষিরা। এতে একদিকে যেমন মৌচাষিরা লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে মৌমাছির পরাগায়ণের কারণে বাড়ছে সরিষার ফলনও।

ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে ২৪৬টি মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন সাতক্ষীরার মেসার্স মাহিম মৌ খামারের মৌচাষি মিজানুর রহমান। তিনি প্রায় ১৪ দিন ধরে সরিষা ক্ষেতে মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ ও বাজারজাত করছেন।

মৌবাক্স পরিচর্যায় নিয়োজিত শ্রমিক মো. ইসলাম, কবির ও হাসান জানান, সাধারণত ১০ দিন পরপর মৌবাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি বাক্স থেকে গড়ে প্রায় ৪ কেজি মধু পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত ২৪৬টি মৌবাক্স থেকে প্রায় ৩৫ মণ মধু সংগ্রহ করা হয়েছে।

এক যুগের বেশি সময় ধরে মৌচাষ ও মধু সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত মিজানুর রহমান বলেন, “গত বছর পাঁচ মাসে ২৪৬টি মৌবাক্স থেকে প্রায় ১২০ মণ মধু সংগ্রহ করেছিলাম। এ বছরও একই পরিমাণ মধু পাওয়ার আশা করছি।” তিনি জানান, প্রতি কেজি মধু ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এই মধু দেশের এসিআই ও এপি এবং ভারতের ডাবর কোম্পানির কাছে সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও খুচরা বিক্রি হয়।

মৌচাষিরা জানান, সাধারণত অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে সরিষা ফুল থেকে সবচেয়ে বেশি মধু সংগ্রহ করা যায়। প্রতিটি মৌবাক্সে ছয় থেকে আটটি ফ্রেম থাকে এবং একটি বাক্সে একটি রানী মৌমাছির সঙ্গে থাকে ৫০ হাজারের বেশি মৌমাছি। মৌমাছিগুলো চার কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত গিয়ে মধু সংগ্রহ করতে পারে।

মৌচাষিরা বছরে সাধারণত পাঁচ মাস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করেন। বাকি সাত মাস মৌমাছিদের খাবার দিয়ে পালন করা হয়। শীত মৌসুমে খুলনার ডুমুরিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। শীত শেষে মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ফরিদপুরে ধনে ও কালিজিরা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। এরপর ঈশ্বরদী, নাটোর, রাজশাহী ও দিনাজপুরে লিচুর ফুল থেকে মধু আহরণ করা হয়। সাধারণত চৈত্র মাসে লিচু ফুলের মধু সংগ্রহ শেষ হয়।

কৃষি বিভাগ জানায়, গত বছর খুলনা জেলায় ৪১ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিল। সে সময় ৩৪ জন মৌচাষি ৫ হাজার ৬৪৩টি মৌবাক্স থেকে প্রায় ২৭ টন মধু সংগ্রহ করেন। চলতি মৌসুমে জেলায় ৪১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এ বছর ৪৫ জন মৌচাষি মোট ৭ হাজার ২৮৭টি মৌবাক্স স্থাপন করেছেন।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “মৌবাক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহে মৌচাষি ও সরিষাচাষি—উভয়ই লাভবান হন। মৌমাছির পরাগায়ণের ফলে ফসলের উৎপাদন বাড়ে। গত বছরের তুলনায় এ বছর সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। ফলে মধু সংগ্রহও বাড়বে বলে আশা করছি। তবে মধু সংগ্রহের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় না।”

NGS/MMH

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park