
শেখ ফসিয়ার রহমান নড়াইল
নড়াইল জেলার কালিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং সাবেক সংসদ সদস্য এখলাছ উদ্দিন আহমেদের ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে তাঁর কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল এবং স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সবাই তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এখলাছ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন নড়াইল অঞ্চলের একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। তিনি কালিয়া উপজেলার বেন্দাচর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হাজী মোমরেজ উদ্দীন বিশ্বাস এবং মাতা রোকেয়া বেগম।
তিনি কালিয়া হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং পরবর্তীতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। অল্প সময় চাকরি করার পর তিনি সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করেন।
তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় চাকরি ত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তিনি নড়াইল মহকুমা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরে বৃহত্তর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব মুহূর্তে তিনি যশোর সংগ্রাম পরিষদের পাঁচ সদস্যের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি যশোর প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেন এবং পরে ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি ৮ ও ৯ নম্বর সেক্টরে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলতেন— এটি কোনো সাধারণ যুদ্ধ নয়, এটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ৭ ডিসেম্বর যশোরে প্রবেশ করেন এবং ১১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক জনসভার আয়োজন করেন। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে যশোর শহরের আনন্দ মিছিলে তিনি নেতৃত্ব দেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কালিয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠা, শহীদ আব্দুস ছালাম ডিগ্রী কলেজসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র এহসানুল হক টুনু ১৯৮৫ সালের ১১ জুন স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের হাতে নিহত হন। সেই শোককে স্মরণ করে প্রতিবছর এই দিনটি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা হয়।শেষে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।