
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন গিলাতলা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রতিরোধ আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। স্থানীয় যুবসমাজ, শিক্ষার্থী ও সচেতন এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন এখন এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দুই দশক ধরে এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, শাবানা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে এলাকার স্কুল-কলেজপড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থী বিপথে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিল। এ পরিস্থিতিতে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন এলাকার সচেতন মানুষ।
অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় মুরুব্বি, নারী ও যুবকদের বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। প্রতিবাদকারীদের দমিয়ে রাখতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, হামলার হুমকি এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় মাদকবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন গিলাতলার বাসিন্দা ও সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক। তার নেতৃত্বে এলাকার ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং সচেতন ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক ও তার সহযোগীদের একাধিকবার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। তবে নানা বাধা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে অভিযুক্ত মাদক কারবারিরা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। তবে তারা পার্শ্ববর্তী এলাকায় গিয়ে পুনরায় একই ধরনের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে গিলাতলার ছাত্র-যুবকদের উদ্যোগে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
NGS/MMH