
শেখ ফসিয়ার রহমান, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতি করে আসা শেখ গোলাম মোর্শেদ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পেড়লী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পেড়লী খানকা শরিফের সামনে চিত্রা নদীর তীরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা জানান।
গোলাম মোর্শেদ বলেন, ২০১৭ সালে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তিনি পেড়লী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন। সে সময় নড়াইল জেলা বিএনপির নেতা বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের অনুপ্রেরণায় তিনি নির্বাচনে অংশ নেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন দলীয় মনোনয়ন চাইলেও তাঁরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন না। পরে কালিয়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নজরুল সাহেব তাঁকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি এতে সম্মত হন।
তিনি জানান, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০১৭ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে তিনি ১ হাজার ৭৭৯ ভোট পান এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের সময় তিনি স্বাভাবিকভাবে এলাকায় গিয়ে ভোট চাইতে পারেননি এবং প্রশাসনের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছেন।
গোলাম মোর্শেদের ভাষ্য, তাঁর ছেলে, পুত্রবধূ, দুই মেয়ে, স্ত্রী, ভাইপো এবং অল্পসংখ্যক কর্মী-সমর্থক ভোটের মাঠে তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। আত্মীয়স্বজনও ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়েছেন। দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের তিনি প্রকাশ্যে না এসে গোপনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁর মতো দলের আরও অনেক নেতা-কর্মী বিএনপির কঠিন সময়ে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। ওই সময়ে কালিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান মিলুকে দুইবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, দল-মত নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে মিলুর ভালো গ্রহণযোগ্যতা ছিল এবং তাঁর বিজয়ের পথ কীভাবে ‘প্রতিহিংসার চাদরে’ মুড়ে দেওয়া হয়েছিল, তা সবার কাছে প্রতীয়মান।
গোলাম মোর্শেদ বলেন, নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি ও নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে তাঁকে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করবেন।
৭৩ বছর বয়সী এই বিএনপি নেতা বলেন, জীবনের শেষ সময়ে তাঁকে একবার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিয়ে দেশ, দল ও এলাকার মানুষের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি দলের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন।