
মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
একজন শিক্ষক হয়তো শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যবইয়ের পাঠ পড়ান। কিন্তু কিছু শিক্ষক থাকেন, যাঁরা শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীর জীবনের অংশ হয়ে ওঠেন। তাঁদের শেখানো শুধু পরীক্ষার খাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং জীবনের প্রতিটি বাঁকে হয়ে ওঠে পথচলার আলো। শ্বাশতি ইসলাম সুষমার কাছে তাঁর প্রিয় শিক্ষিকা মোসাঃ সালমা খানম ঠিক তেমনই একজন মানুষ।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে সালমা খানমকে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন গোপালগঞ্জ পৌরসভার মিয়াপাড়া কবরস্থান রোডের বাসিন্দা এবং বর্তমানে পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শ্বাশতি ইসলাম সুষমা।
শ্বাশতির কাছে সালমা খানম শুধু একজন শিক্ষিকা নন, জীবনের নানা বাঁকে পথ দেখানো একজন অভিভাবক। হাইস্কুল জীবনে তাঁর সান্নিধ্যে পাওয়া শিক্ষা, মূল্যবোধ ও জীবনবোধ এখনো শ্বাশতির পথচলার অনুপ্রেরণা।
শ্বাশতি বলেন, সালমা খানমের কাছে শিক্ষা কখনো শুধু পাঠ্যবই কিংবা শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। স্কুলের পর প্রাইভেট পড়ার সময়ও তাঁরা দীর্ঘ সময় ম্যামের সান্নিধ্যে কাটিয়েছেন। সেই সময় পড়াশোনার পাশাপাশি মানুষ চেনা, সম্পর্কের মূল্য বোঝা, প্রিয়জনকে সম্মান করা এবং জীবনের প্রতিকূলতার মুখে দৃঢ় থাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও পেয়েছেন।
শিক্ষিকার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সেই আন্তরিক সম্পর্কের একটি স্মৃতিও আজও শ্বাশতির মনে অমলিন। সালমা খানম যখন ডে শিফট থেকে মর্নিং শিফটে বদলি হন, তখন প্রিয় ম্যামের কাছাকাছি থাকার জন্য শ্বাশতি ও তাঁর দুই বান্ধবীও শিফট পরিবর্তন করে মর্নিং শিফটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ম্যামের বাসায় বান্ধবীদের সঙ্গে কাটানো আনন্দময় সময়গুলোর স্মৃতিও এখনো তাঁদের মনে বিশেষ জায়গা করে আছে।
শ্বাশতির কাছে সালমা খানমের নিজের জীবনও একটি অনুপ্রেরণার গল্প। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি শিক্ষাজীবন থামিয়ে দেননি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এড ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এড পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন সালমা খানম।
শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই থেমে থাকেননি তিনি। সন্তানকেও উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে নিয়েছেন। সালমা খানমের মেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (BSMRAAU) অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান এবং বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন।
শ্বাশতির ভাষায়, সালমা খানমের জীবন তাঁকে একটি বিষয় গভীরভাবে শিখিয়েছে—পরিস্থিতি যত প্রতিকূলই হোক, সত্য ও সততার পথ থেকে সরে যাওয়া যাবে না। জীবনের কোনো বাধার কাছে থেমে না গিয়ে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
বর্তমানে পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের প্রথম বর্ষে পড়ছেন শ্বাশতি ইসলাম সুষমা। মেডিকেল সেক্টরকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনেও তাঁর প্রিয় শিক্ষিকা সালমা খানমের অনুপ্রেরণা ও অবদান রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রিয় শিক্ষিকাকে স্মরণ করতে গিয়ে শ্বাশতির উপলব্ধি—একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না। একজন শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর চিন্তা, মূল্যবোধ, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সালমা খানম তাঁর জীবনে তেমনই একজন শিক্ষক, যাঁর শেখানো কথা আজও জীবনের পথচলায় আলো দেখায়।
তাই বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রিয় শিক্ষিকা সালমা খানমসহ পৃথিবীর সব শিক্ষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শ্বাশতি ইসলাম সুষমা।