
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘আপনার চোখকে ভালোবাসুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লীতে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। চোখের গুরুত্ব, চোখের যত্ন, দৃষ্টিশক্তি রক্ষা এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাশিবিরের আয়োজন করা হয়। দাতা সংস্থা অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় ‘এক্সপ্যান্ডিং সাসটেইনেবল মডেল অব ভিশন সেন্টার টু ডেলিভার কমপ্রিহেনসিভ প্রাইমারি আই কেয়ার সার্ভিসেস ইন রুরাল বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় কর্মসূচির আয়োজন করে খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল।
দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে পেড়লীতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পেড়লী উত্তরপাড়া ব্যারিস্টার হাফিজ হাসপাতালের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. এহসানুল কবীর, প্রোগ্রাম হেড মীর মিজানুর রহমান, পেড়লী ভিশন সেন্টারের সমন্বয়কারী মো. কামাল হোসেনসহ ভিশন সেন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র্যালি শেষে পেড়লী ভিশন সেন্টারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চোখের যত্ন নেওয়া, দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ পর্যায়ে প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসাশিবিরে ১১৫ জন রোগীর চোখ পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ২৬ জনকে বিনামূল্যে চশমা এবং ৪৭ জনকে ওষুধ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ছানিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ২৮ জন রোগীকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার ও লেন্স সংযোজনের জন্য খুলনার শিরোমনিতে অবস্থিত বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং চোখের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রামীণ এলাকার মানুষের কাছে সহজে প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল প্রকল্পটির আওতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে পেড়লী ভিশন সেন্টার স্থানীয় জনগণের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।