1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলে নবগঙ্গা সেতুর কাজ থমকে, দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরমে তেরখাদায় দুর্গাপূজা ঘিরে পুলিশের মতবিনিময় সভা, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা তেরখাদায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, সহনশীল দেশ গড়ার আহ্বান খুলনার জিরো পয়েন্টে বাসে তল্লাশি, ৬ কেজি ৫৯৭ গ্রাম আইস উদ্ধার সাজমীর হত্যা মামলায় এসআরবি-৬-এর অভিযানে দুই আসামি গ্রেপ্তার রূপসায় ইটভাটা ব্যবসায়ী ফখরুল হত্যা মামলার আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার বড়দিয়া বাজার রক্ষায় উদ্যোগ, ভাঙন প্রতিরোধে শুরু হচ্ছে জরুরি কার্যক্রম খুলনার একাধিক হত্যা মামলার আসামি ওসমান পাবনায় গ্রেপ্তার সুন্দরবনে জলদস্যুদের আস্তানায় অভিযান, ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার বড়দিয়া বাজারে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন ইউএনওর, ১৬ ব্যবসায়ীকে সহায়তা ও জিওব্যাগ ফেলার নির্দেশ

মধুমতির ভাঙনে বিলীনের পথে চর মধুপুর, শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর শঙ্কা

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াইল

একসময় ছিল ঘরবাড়ি, গাছপালা, ফসলের মাঠ আর মানুষের কোলাহল। সেই চেনা জনপদে এখন নদীর অবিরাম ছোবল, ভাঙনের শব্দ আর সর্বস্ব হারানোর আতঙ্ক। মধুমতি নদী ক্রমেই গ্রাস করছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের চর মধুপুর। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি, ভেঙে পড়ছে মানুষের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন। কেউ হারিয়েছেন পৈতৃক ভিটা, কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সরিয়ে নিয়েছেন ঘরবাড়ি। আর নদীর পাড়ে টিকে থাকা পরিবারগুলোর প্রতিটি দিন কাটছে একটাই শঙ্কা পরের ভাঙনে হয়তো হারিয়ে যাবে শেষ আশ্রয়টুকুও।

দীর্ঘদিন ধরে মধুমতির ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চর মধুপুরের বিভিন্ন অংশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙনের তীব্রতা বাড়লেও স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর স্রোত অনেক জায়গায় বসতভিটার একেবারে কাছে চলে এসেছে। তীরবর্তী কয়েকটি বাড়ি রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে। দিনের আলোয় নদীর ভাঙন দেখা গেলেও রাত নামলেই বাড়ে আতঙ্ক। কখন নদীর পাড় ধসে বসতভিটা তলিয়ে যায়, সেই আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন অনেক পরিবার।

ভুক্তভোগী মিজান মল্লিকের কথায় ফুটে ওঠে নদীপাড়ের মানুষের অসহায়ত্ব। তিনি বলেন, “সব হারিয়ে এখন শুধু পৈতৃক ভিটাটুকু আছে। সেটিও কখন নদীগর্ভে চলে যায়, সেই আতঙ্কে রাতদিন ঘুমাতে পারি না। আশপাশে আর বাড়ি নেই। এখন আমার বাড়িটিও কখন হারিয়ে যায়, সেই চিন্তায় আছি।” স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ্ব মল্লিক বলেন, “জন্ম থেকেই এই ভাঙন দেখে আসছি। বছরের পর বছর নদীভাঙনে আমরা পরিবার নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি।”

চর মধুপুরের বাসিন্দাদের কাছে নদীভাঙন এখন শুধু জমি বা ঘরবাড়ি হারানোর ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের বসতি, জীবিকা ও শিকড় হারানোর ভয়াবহ বাস্তবতা। তাঁদের প্রশ্ন, একটি জনবসতি যখন ধীরে ধীরে নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে, তখন স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ কতটা নেওয়া হয়েছে? স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো আগেই চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করতে হবে। কারণ, নদীভাঙনে একটি ঘর ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ে একটি পরিবারের নিরাপত্তা, জীবিকা ও ভবিষ্যতের স্বপ্নও।

১০ নম্বর পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “চর মধুপুরে নদীভাঙনের প্রকোপ অনেক বেড়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। ইতোমধ্যে কালিয়া উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, “চর মধুপুরের নদীভাঙনের বিষয়টি ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি। দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য জানানো হয়েছে।”

এদিকে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “চর মধুপুর গ্রামের নদীভাঙনকবলিত মানুষের দুঃখ-দুর্দশার বিষয়টি আমি জেনেছি। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নদীভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের পাশে অতীতেও ছিলাম, এখনো আছি এবং থাকব, ইনশাআল্লাহ।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে চর মধুপুরের অবশিষ্ট বসতভিটাগুলোও একে একে মধুমতির গর্ভে বিলীন হতে পারে। এ আশঙ্কা থেকে তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীর পরিদর্শন করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী জিওব্যাগ ব্যবহারসহ প্রকৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও জরুরি সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

নদীভাঙনের ক্ষত শুধু মাটির সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে হারিয়ে যায় মানুষের স্মৃতি, বেড়ে ওঠার জায়গা, গাছপালা, প্রতিবেশীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকা পূর্বপুরুষের ঠিকানা। চর মধুপুরের মানুষ এখন সেই শিকড় হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব বাড়তে থাকার আগেই সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন সমন্বিত উদ্যোগ নেবে, যাতে মধুমতির ভাঙন ঠেকিয়ে রক্ষা করা যায় অবশিষ্ট জনপদ ও মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু।

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park