
দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দশমিনায় স্বামীর সংসারে ফিরে যাওয়ার দাবিতে শ্বশুরবাড়িতে দিনভর অনশন করেছেন মুক্তা রানী নামের এক গৃহবধূ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) উপজেলার রংগোপালদী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওপেন মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে মুক্তা রানীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে মায়ের হেফাজতে দেয়। এ ঘটনায় দুই পরিবারের মধ্যে চলমান বিরোধ স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে পারিবারিকভাবে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে সঞ্জয়ের সঙ্গে মুক্তা রানীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রায় চার বছর তাঁরা একসঙ্গে সংসার করেন। সঞ্জয় একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে চাকরি করায় ঢাকায় ভাড়া বাসায় এবং নিজ বাড়িতেও তাঁদের সংসারজীবন কাটে। তবে সংসার শুরুর প্রায় দুই বছর পর তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। পরে সঞ্জয় আর সংসার করতে আগ্রহী নন বলে জানিয়ে দেন। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
অনশনকারী মুক্তা রানী অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্বামী তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংসার করতে চাইছেন না। বিয়ের সময় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সাও আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তাঁর স্বামী একাধিক বিয়ে করলেও তিনি সঞ্জয়ের স্ত্রী হিসেবে তাঁর সংসারেই থাকতে চান। নিজের ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী শাখা-সিঁদুর ধারণ করে স্বামীর ঘরে বাকি জীবন কাটাতে চান তিনি। এমনকি নিজের ভরণপোষণের খরচ নিজেই বহন করতে রাজি আছেন বলেও জানান মুক্তা রানী।
অন্যদিকে মুঠোফোনে সঞ্জয় বলেন, মুক্তা রানীর সঙ্গে তাঁর পক্ষে আর সংসার করা সম্ভব নয়। তাঁর স্ত্রীর বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ কারণে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করে আলাদা হয়ে যেতে চান।
সঞ্জয়ের বড় ভাই উজ্জ্বল বলেন, তাঁর ভাই মুক্তা রানীর সঙ্গে আর সংসার করতে চান না। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শনিবারও উভয় পক্ষের বসার কথা ছিল। তবে তাঁর ভাই গার্মেন্টসে চাকরি করায় ছুটি না পাওয়ায় বাড়িতে আসতে পারেননি।
সঞ্জয়ের বাবা ওপেন মাস্টার বলেন, তাঁর ছেলে যদি মুক্তা রানীকে নিয়ে সংসার করতে রাজি হয়, তাহলে তাঁকে বাড়িতে তুলে নিতে পরিবারের কোনো আপত্তি নেই। তাঁকে সাদরে গ্রহণ করতেও তাঁদের সমস্যা নেই।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নির্মল বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শনিবারও দুই পক্ষের বসার কথা ছিল।
এদিকে মুক্তা রানীর মায়ের অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে মায়ের হেফাজতে দেয়। পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।