
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার টোনা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফল হতাশাজনক। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করলেও একজন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।
একসঙ্গে সব পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী কেন অকৃতকার্য হলো, এর পেছনে দায় কার এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ছিল?
মাদ্রাসার সাবেক অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মিজান মীরের অভিযোগ, পরিচালনা কমিটি গঠনে অনিয়ম, শিক্ষকদের অযোগ্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি যথাযথ তদারকির অভাবে শিক্ষার মান ক্রমেই নিচে নেমেছে। এবারের ফলাফলের দায় বর্তমান পরিচালনা কমিটি ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নিতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের আশঙ্কা, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এ জন্য মাদ্রাসার সার্বিক কার্যক্রমে গ্রামবাসীর নজরদারি ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইকবাল সাঈদী ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তবে এমন ফলাফলে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি জানান, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজছেন।
উল্লেখ্য, এ বছর মাদ্রাসাটি থেকে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন এখন অভিভাবক ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা।