1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিএল কলেজের ২ নম্বর গেটে যুবককে গুলি, আহত মহিদুল  নড়াইলে মাদক বেচাকেনার দ্বন্দ্বে একাধিক মামলার আসামি আরাফাত মোল্যাকে কুপিয়ে হত্যা মোংলায় ৭৫ কেজি গাঁজাসহ চারজন গ্রেপ্তার নড়াগাতীতে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে মতবিনিময় সভা কালিয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত শ্বাশতি ইসলাম সুষমার চোখে সালমা খানম: শিক্ষক নন, জীবনের পথ দেখানো এক আলোকবর্তিকা নড়াগাতী পুলিশের ওপর হামলা করে হ্যান্ডকাফসহ আসামি ছিনতাই, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ফেনীতে চেকপোস্টে ট্রাকের ধাক্কায় এসআরবি সদস্য নিহত, চালক আহত জামিনে বেরিয়েই বেপরোয়া? টিভি অফিসে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ, কে এই সৈয়দ আল আমিন দিঘলিয়ায় চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

দিঘলিয়ায় চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

দিঘলিয়া, খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের মাঝিরগাঁতি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মাঝিরগাঁতি বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুবদল নেতা মো. জিল্লুর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে জিল্লুর রহমান অভিযোগ করেন, মাঝিরগাঁতি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জমি দখল এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ‘মুন্সি গং’ নামে পরিচিত একটি পক্ষের লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগে সুমন, তৈয়ব, কাজল, সোহাগসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

জিল্লুর রহমানের দাবি, বিষয়গুলো স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি তার চাচা বুলু শিকদারের কাছ থেকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। পরে আরও টাকা দাবি করা হলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় দিঘলিয়া থানায় মামলা হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পরে ওই মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ মাঝিরগাঁতি বাজার এলাকায় গেলে পুলিশের একজন কর্মকর্তা ও কয়েকজন কনস্টেবল আহত হন বলে দাবি করেন জিল্লুর রহমান। এ ঘটনায়ও মামলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। জিল্লুর রহমানের দাবি, তার এক চাচাতো ভাই দুধ বিক্রির কাজে একটি এলাকায় গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে তাদের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দুধের কলসও ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের বাড়িতে হামলার আশঙ্কার কথা স্থানীয় ক্যাম্প ও প্রশাসনকে জানানো হয় বলে জানান জিল্লুর রহমান। তার দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়ার পরও পরদিন সকালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। স্থানীয়রা তাদের সঙ্গে নিয়ে হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। আহত চারজনকে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসা শেষে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

জিল্লুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, মাঝিরগাঁতি এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা বিস্তারের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতীতে অভিযান চালানোর চেষ্টা করলেও কথিত প্রভাবশালী একটি পক্ষের কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় তিনি মাঝিরগাঁতি এলাকায় বসবাসরত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, একটি পক্ষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আতঙ্ক ও অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে ভারতে চলে যাচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন। সম্প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কয়েকজনকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জিল্লুর রহমান বলেন, “আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। হিন্দুরা যাতে এ দেশে নিরাপদে ও ভালোভাবে বসবাস করতে পারে, প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এলাকায় কোনো ধরনের অশান্তি চাই না।”

এ ছাড়া অভিযুক্ত পক্ষের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জিল্লুর রহমান। তার দাবি, বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কিছু ছবি ও তথ্য-প্রমাণ তার কাছে রয়েছে এবং বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জিল্লুর রহমান প্রশাসনের কাছে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা বন্ধ, সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, “আমরা চাই এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসুক। কোনো মানুষ যেন ভয় বা আতঙ্কে নিজের বসতভিটা ছেড়ে যেতে বাধ্য না হয়—প্রশাসনকে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।” তবে সংবাদ সম্মেলনে যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park