
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মিয়াকুন্ডু গ্রামের দিগন্তবিস্তৃত মাঠজুড়ে এখন শুধুই সরিষার হলুদ ফুল। যতদূর চোখ যায়, হলুদে মোড়া ক্ষেত যেন এক বিশাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছে প্রকৃতি। ফুলের রঙের সঙ্গে সরিষার সুবাস আর মৌমাছির গুঞ্জনে পুরো এলাকা হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত।
মিয়াকুন্ডু গ্রামের মতোই জেলার ছয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা ফুলে ভরে গেছে সদর, শৈলকুপা, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও হরিণাকুন্ডু উপজেলার মাঠ-প্রান্তর।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলার ছয় উপজেলায় ১৩ হাজার ২৩৯ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, যেখানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ২৩৫ মেট্রিক টন। অনুকূল আবহাওয়া, সরকারের প্রণোদনা এবং কৃষকদের বাড়তি আগ্রহের কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যার ফলে ভালো ফলনের সম্ভাবনাও দেখছেন কৃষি বিভাগ।
সদর উপজেলার মিয়াকুন্ডু গ্রামের কৃষক আনু মণ্ডল বলেন, “এ বছর ঝড়-বৃষ্টি না হওয়ায় সরিষার কোনো ক্ষতি হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।”
একই গ্রামের কৃষক মশিয়ার রহমান জানান, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১১ মণ সরিষা পাওয়া যাবে বলে তারা আশাবাদী।
কৃষক বসির মিয়া বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে বীজ ও সার পাওয়ায় এবার সরিষার আবাদ বেড়েছে। বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেশি। সরিষার ফলন ভালো হলে সয়াবিন তেলের ওপর নির্ভর করতে হবে না। নিজেদের উৎপাদিত সরিষার তেল দিয়েই সারা বছর চলবে। কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।”
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুর-এ-নবী বলেন, “ভোজ্য তেলে আমদানি নির্ভরতা কমানো, শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি এবং জমির উর্বরতা ধরে রাখতে সরিষা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পর্যাপ্ত বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরিষা ক্ষেতের পাশে মধু চাষ উৎসাহিত করা হচ্ছে, এতে একদিকে সরিষার ফলন বাড়ছে, অন্যদিকে মধু উৎপাদনও হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সরিষা উৎপাদন হবে বলে আমরা আশা করছি।”
NGS/MMH