
শেখ ফসিয়ার রহমান নড়াইল
নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে মারধর ও সরকারি কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত জিসানুর রহমান নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে সদর উপজেলার বাশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব।
রোববার (২৮ জুন) রাতে আহত মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হান বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় জিসানুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জিসানুর রহমান প্রায়ই সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য দাবি করতেন। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে গিয়ে জেলার সুবিধাভোগীদের প্রদর্শনী তালিকা চান। এ সময় মৎস্য কর্মকর্তা জানান, এর আগেও তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানকে কিল-ঘুষি মারেন। এতে তার নাক, মুখ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ ছাড়া সরকারি কার্যালয়ের একটি প্রায় ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর ভাঙচুর, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছড়িয়ে সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিসানুর রহমান। তিনি বলেন, উপকারভোগীদের তালিকা চাইতে মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। তথ্য না পেয়ে বের হওয়ার সময় অফিসের এক কর্মচারী তাকে ভিডিও ধারণের অভিযোগ করেন। পরে কয়েকজন কর্মচারী তাকে মেঝেতে ফেলে মারধর করেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, “আমি কেন কর্মকর্তাকে মারতে যাব?”
এদিকে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের মতে, কার্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থাকলে তা পর্যালোচনা করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, “মৎস্য কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”