
নড়াইল প্রতিনিধি: শেখ ফসিয়ার রহমান
নড়াইলে চোর সন্দেহে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর নিহত বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবক আনোয়ার মোল্যা হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে যশোর জেলার নারকেলবাড়িয়া এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া আসামি আকাশ বিশ্বাস (২৫) নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া গ্রামের প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে। তিনি এ হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যশোরের নারকেলবাড়িয়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আকাশকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
উল্লেখ্য, নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের সরকেলডাঙ্গা গ্রামের কাওছার উদ্দিন মোল্যার ছেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী আনোয়ার মোল্যা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আটদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২ জুলাই সকালে মারা যান। ওই দিন বিকেলে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে সন্ধ্যায় স্থানীয় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে আনোয়ারের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী বাঁশগ্রাম বাজার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে সরকেলডাঙ্গা মাদ্রাসার সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় নেতারা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুন সকালে আনোয়ার বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে ওইদিন রাতে সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকায় তাকে চোর সন্দেহে কয়েকজন গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর অমানবিক নির্যাতন ও মারধর করে। পরদিন (২৫ জুন) সকালে খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ জুলাই তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত আনোয়ারের ভাই নবীর হোসেন বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।