
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা
ডুমুরিয়া উপজেলাজুড়ে এখন চোখে পড়ছে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। ছোট চারাগাছ থেকে শুরু করে বিশাল পুরনো আমগাছ—ডালে ডালে ঝুলছে সবুজ কাঁচা আমের থোকা। এই দৃশ্য শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং স্থানীয় চাষিদের মনে জাগাচ্ছে নতুন আশা।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাগানগুলোতে এবার আমের ফলন ব্যাপক। বৈশাখী হাওয়ায় দোল খাচ্ছে গাছে ঝুলে থাকা সবুজ আম। ছোট ও মাঝারি আকারের গাছগুলোতেও প্রচুর আম দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আমের ভারে গাছের ডাল নুয়ে পড়তে দেখা গেছে। স্থানীয় চাষিরা জানিয়েছেন, মুকুল আসার পর থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে আমের গুটি ভালো রয়েছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই আমগুলো পরিপক্ক হয়ে উঠবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, সঠিক সময়ে সেচ ও বালাইনাশক প্রয়োগের ফলে আমের গুটি ঝরা কমেছে। ফলে এবার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও আম সরবরাহ সম্ভব হবে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা জানান, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগো, বারি-১, বারি-২, বারি-৩ ও বারি-৪সহ নতুন জাতের আমের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া দেশি জাতের ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, মিশ্রিভোগ ও হাড়িভাঙ্গা আমেরও ভালো মুকুল এসেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়ার ৩২৭ হেক্টর জমিতে ৩৮০টি আম বাগান রয়েছে এবং অধিকাংশ গাছে এবার আম হয়েছে। গত বছর উপজেলায় প্রায় ৫,৫০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছিল এবং জেলা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা হয়েছিল। এবছরও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
NGS/MMH