
দিঘলিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বোরো মৌসুমে ধানক্ষেতে ক্ষতিকর পোকা দমনে পরিবেশবান্ধব ‘আলোক ফাঁদ’ পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ছে। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এ পদ্ধতির সুফল পেতে শুরু করেছেন কৃষকরা। এতে কমছে কীটনাশকের ব্যবহার, হ্রাস পাচ্ছে উৎপাদন খরচ, বাড়ছে লাভ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের রবি মৌসুমে দিঘলিয়ার ৬টি ইউনিয়নের ১৮টি ব্লকে একযোগে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর এসব ফাঁদ স্থাপনের সময় কৃষি কর্মকর্তা, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাসহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৪ হাজার ৮৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কপিল দেব বসাক জানান, ধান বর্তমানে ফুল, দুধ ও দানা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করছে এবং সার্বিকভাবে ফসলের অবস্থা সন্তোষজনক।
এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেনহাটি ইউনিয়নের বাঁশেরহাট কুন্ডুপাড়া মাঠে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়। মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ফাঁদে তেমন ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরা পড়েনি, যা ধানের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজ ধানের সমারোহ। কৃষকরা বিষের বিকল্প হিসেবে আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা শনাক্ত ও দমন করছেন। ক্ষেতের আইলে পানিভর্তি পাত্রে আলোর উৎস স্থাপন করে ক্ষতিকর পোকা আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পোকামাকড়ের উপস্থিতি ও মাত্রা নির্ধারণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, এ পদ্ধতিতে ধানের প্রধান ক্ষতিকর পোকা—কারেন্ট, মাজরা, গান্ধি পোকা, চুঙ্গি পোকা ও বাদামী ঘাসফড়িং—নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল মিলছে। একই সঙ্গে কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীলতা কমে পরিবেশও সুরক্ষিত থাকছে।
গোয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল কাইউম বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে সহজেই পোকা দমন করা যাচ্ছে। এতে খরচ কমছে এবং ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।
কৃষি অফিস জানায়, খুলনা জেলার মোট ৬১টি ব্লকে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কিশোর আহমেদ বলেন, আলোক ফাঁদ একটি সহজ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি। কৃষকদের মাঝে এটি ছড়িয়ে দিতে নিয়মিত সভা ও উঠান বৈঠক করা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের ফলে চলতি মৌসুমে দিঘলিয়ায় বোরো ধানের ভালো ফলন হবে এবং কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।