1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়া প্যারী শংকর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত সাভার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেনাসদস্য সৈনিক মাসুম বিল্লাহর মৃত্যু ! মাত্র ২২ বছর বয়সেই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ঘোষণা, জয়নগর ইউনিয়নে শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খুলনা ২২ নম্বর ওয়ার্ড সম্মেলন  নড়াইলে ৫ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড সরিফপুর ত্রিমোহনা শ্মশানে জাগ্রত মা মনসা পূজা অনুষ্ঠিত নড়াইলের কালিয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর উদ্বোধন বারবার নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী পার্পিয়া, আবারও নির্বাচনী মাঠে তেরখাদায় খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া তেরখাদায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্বোধন

নড়াইলের কালিয়ায় দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, সহকর্মীদের মারধর

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৮২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার প্যারী শংকর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন—সহকারী প্রধান শেখ সাহিদুর ইসলাম ও তার ছোট ভাই শেখ তকিবুর রহমান।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শেখ সাহিদুর ইসলাম কোনো কারণ ছাড়াই সহকর্মীদের সঙ্গে প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি সহকারী শিক্ষক প্রশান্ত বিশ্বাস ও চৈতালী বিশ্বাসকে মারধর করেন।

চৈতালী বিশ্বাস বলেন, “ঘটনার দিন আমি শিক্ষকরুমে গিয়েছিলাম। তখন সহকারী প্রধান শিক্ষক অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি প্রশান্ত বিশ্বাসকে হাতুড়ি দিয়ে মারতে যাচ্ছিলেন। আমরা ঠেকানোর চেষ্টা করলে তিনি আমাকে ঘুষি মারেন। ঘুসিটি আমার কপালের ডান পাশে লেগে রক্ত জমাট হয়ে যায়। প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছি। পরে ২৭ অক্টোবর খুলনায় সিটিস্ক্যান করানো হয়। চিকিৎসক জানিয়েছেন, কপালের উপরের অংশে ক্ষতি হয়েছে এবং দুই মাস চিকিৎসা প্রয়োজন। আমি চিকিৎসাধীন থাকার কারণে ১৫ দিনের ছুটিতে আছি। ঘটনার দিনই প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। তবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।”

অন্য ভুক্তভোগী শিক্ষক প্রশান্ত বিশ্বাস জানান, “সহকারী প্রধান শিক্ষক কাস্তে ও হাতুড়ি নিয়ে শিক্ষকরুমে এসে আমাকে মারতে চেয়েছিলেন। আমাকে ঠেকাতে গিয়ে চৈতালী গুরুতর আহত হন। আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখনও বিচার হয়নি।”

অভিযোগ রয়েছে, বড় ভাই সাহিদুর ইসলাম সহকারী প্রধান শিক্ষক হওয়ার সুবাদে ছোট ভাই তকিবুর রহমান প্রায়ই ক্লাস না নিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। তিনি জমি-বেচাকেনা ও মাপ দেয়ার কাজে ব্যস্ত থাকেন। স্থানীয়রা বলছেন, বিদ্যালয়ের সংলগ্ন বেন্দা এলাকায় তাদের বাড়ি হওয়ায় তারা স্থানীয় দাপট দেখিয়ে থাকেন। অভিযোগ, আগের সরকারের সময় তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় ছিলেন এবং বর্তমানে প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়াতেও তাদের বেপরোয়া আচরণ অব্যাহত রয়েছে।

বিদ্যালয়টি ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি ঐহিত্য ধরে রাখলেও, বিগত কয়েক বছর শিক্ষার মান ও পরিবেশের অবনতি ঘটেছে। প্রায় ১৫ বছর আগে এখানে শিক্ষার্থী ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ জন। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫১ জনে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপ্তি রানী বৈরাগী বলেন, “অভিযোগপ্রাপ্ত শিক্ষক শেখ সাহিদুর ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সাত দিনের মধ্যে তিনি জবাব দেবেন। শেখ তকিবুর রহমান মাঝে মাঝে জমির কাজে যান, তবে নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দেন না। শিক্ষার পরিবেশে অবনতি মূলত আশেপাশের প্রতিযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার কারণে।”

কালিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “দুই শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ পেয়েছি। প্রধান শিক্ষকের প্রতিবেদনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দুই শিক্ষককে মারধরের ঘটনা এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও বিচার না পাওয়ায় ভুক্তভোগীরা আতঙ্কিত। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ দাবি করছেন, বিদ্যালয়ে দ্রুত শিক্ষার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক শেখ সাহিদুর ইসলাম ও শেখ তকিবুর রহমানকে অপসারণ করা হোক এবং ন্যায্য বিচার কার্যকর হোক।

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park