
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন জোরদার করতে খুলনায় নারী সাংবাদিকদের নিয়ে সরাসরি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর্টিকেল 19, সাউথ এশিয়ার উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি (BJPC)-এর সহযোগিতায় সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খালিশপুরের ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে এ সংলাপ হয়।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের কর্মক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কর্মপরিবেশ–সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা ও ডিজিটাল হয়রানির ঘটনার প্রেক্ষাপটে কার্যকর নীতি ও যৌথ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মতবিনিময় হয়।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন আর্টিকেল 19 -এর এশিয়া অঞ্চলের প্রোগ্রামার শায়লা রহমান ইমা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আর্টিকেল 19-এর হেড অব প্রোগ্রামস শাহনেওয়াজ পাটোয়ারী, হেড অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মো. রুবায়েত হোসেন, আইটি অফিসার সাদমান আহমেদ, এবং বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক কৌশিক দে।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ও সংগঠনের সিনিয়র কার্যনির্বাহী সদস্য মোস্তফা জামান, সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান কবির, এবং খুলনা, যশোর ও আশপাশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ১৭ জন নারী সাংবাদিকসহ মোট ২৫ জন সংবাদকর্মী।
বক্তারা বলেন, মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে কাজ করছেন—শারীরিক হামলা, আইনি হয়রানি, মানসিক চাপ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা হুমকি এর মধ্যে অন্যতম। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা, সমন্বিত নিরাপত্তা নীতি এবং দ্রুত প্রতিকার কাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ দেন তাঁরা।
আলোচনায় উঠে আসে, নারী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ আরও বহুমাত্রিক—হয়রানি, বৈষম্য, এবং নেতৃত্ব পর্যায়ে অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা আজও রয়ে গেছে। বক্তারা বলেন, “নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ ছাড়া টেকসই সাংবাদিকতা সম্ভব নয়; তাই নিরাপত্তা ও লিঙ্গসমতা—দুটি বিষয়কে একীভূতভাবে দেখতে হবে।”
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা সাংবাদিকদের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, আইনি সহায়তা ব্যবস্থা, এবং মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা সেবা চালু করার পরামর্শ দেন। তাঁদের মতে, নিরাপদ সাংবাদিকতা কেবল সাংবাদিকের সুরক্ষাই নয়—এটি গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আর্টিকেল 19-এর প্রতিনিধিরা জানান, সংস্থাটি দক্ষিণ এশিয়ায় সাংবাদিকদের সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বাংলাদেশে এই ধরনের সংলাপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আগামী বছরগুলোতে আরও বিস্তৃতভাবে আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।