1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাঐসোনা কামশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুল গফফার মোল্যা আর নেই নড়াইলে প্রতিবন্ধী আনোয়ার হত্যা মামলার এক আসামি গ্রেফতার কালিয়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু; স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক জমজমাট ভোটে পালের বাজার কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন; নতুন নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা নড়াগাতীতে প্রবাসীর দুই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ভাতিজার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ নড়াইলে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, শিক্ষক দম্পতিকে কুপিয়ে জখম; নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট কালিয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নড়াইলে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারধর ও সরকারি কম্পিউটার ভাঙচুরের অভিযোগ, মামলা দায়ের নড়াইল-১ আসনে উন্নয়নের গতি অব্যাহত, সমান গুরুত্ব পাচ্ছে সব এলাকা স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবার

উপকূলের সুপেয় পানির সংকট: জলবায়ু পরিবর্তনের নিষ্ঠুর বাস্তবতা

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০২৫
  • ৪৪৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

 

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং লবণাক্ততার বিস্তার উপকূলীয় জনজীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এসব অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট বর্তমানে এক চরম বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা প্রতিদিনের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে।

উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ নলকূপ এখন অকেজো। মাটির নিচে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় তা পান করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পুকুর ও জলাধার শুকিয়ে যাচ্ছে, অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার প্রচলিত পদ্ধতিও ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে এলাকার নারীদের প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এর ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পুষ্টিহীনতা ও পানিবাহিত রোগের প্রকোপও বেড়ে গেছে।

কার্বন নিঃসরণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:

এই সংকটের মূলে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, যা মূলত কার্বন নিঃসরণের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণেই হচ্ছে। শিল্পায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে। যার ফলে বর্ষাকালে অনিয়মিত ও অতিবৃষ্টি হচ্ছে, আবার শুষ্ক মৌসুমে দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি কমে যাওয়ায় মিঠা পানির আধার সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো না গেলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে পানির সংকট আরও প্রকট হবে। বিশ্বব্যাপী কার্বন নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। উন্নত দেশগুলো ব্যাপক হারে কার্বন নিঃসরণ করলেও তার প্রভাব বাংলাদেশসহ ছোট ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর উপর বেশি পড়ছে।

সমাধানের উপায়:

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বহুমুখী উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রথমত, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বড় আকারের জলাধার নির্মাণ, রেইনওয়াটার হারভেস্টিং পদ্ধতির সম্প্রসারণ এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য ডি-সলিনেশন (লবণমুক্তকরণ) প্লান্ট স্থাপন করা যেতে পারে। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ করে সুপেয় পানি উৎপাদন করা সম্ভব।

তৃতীয়ত, পানির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিতে আধুনিক সেচব্যবস্থা, পানির অপচয় রোধ এবং ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা প্রয়োজন।

চতুর্থত, বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগে বাংলাদেশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ দাবি করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সবুজায়নের মাধ্যমে কার্বন নিরসনের কাজ করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন যে শুধু ভবিষ্যতের সমস্যা নয়, বরং বর্তমানের এক ভয়াবহ সংকট—উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির অভাব তার অন্যতম উদাহরণ। এই সংকটের সমাধানে এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করে টেকসই সমাধান খুঁজতে হবে। না হলে উপকূলীয় মানুষদের জীবনধারণ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে পড়বে, যা পুরো দেশের অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখনই সময় সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের।

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park