1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলে নবগঙ্গা সেতুর কাজ থমকে, দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরমে তেরখাদায় দুর্গাপূজা ঘিরে পুলিশের মতবিনিময় সভা, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা তেরখাদায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, সহনশীল দেশ গড়ার আহ্বান খুলনার জিরো পয়েন্টে বাসে তল্লাশি, ৬ কেজি ৫৯৭ গ্রাম আইস উদ্ধার সাজমীর হত্যা মামলায় এসআরবি-৬-এর অভিযানে দুই আসামি গ্রেপ্তার রূপসায় ইটভাটা ব্যবসায়ী ফখরুল হত্যা মামলার আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার বড়দিয়া বাজার রক্ষায় উদ্যোগ, ভাঙন প্রতিরোধে শুরু হচ্ছে জরুরি কার্যক্রম খুলনার একাধিক হত্যা মামলার আসামি ওসমান পাবনায় গ্রেপ্তার সুন্দরবনে জলদস্যুদের আস্তানায় অভিযান, ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার বড়দিয়া বাজারে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন ইউএনওর, ১৬ ব্যবসায়ীকে সহায়তা ও জিওব্যাগ ফেলার নির্দেশ

উপকূলের সুপেয় পানির সংকট: জলবায়ু পরিবর্তনের নিষ্ঠুর বাস্তবতা

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০২৫
  • ৫২৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

 

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং লবণাক্ততার বিস্তার উপকূলীয় জনজীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এসব অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট বর্তমানে এক চরম বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা প্রতিদিনের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে।

উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ নলকূপ এখন অকেজো। মাটির নিচে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় তা পান করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পুকুর ও জলাধার শুকিয়ে যাচ্ছে, অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার প্রচলিত পদ্ধতিও ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে এলাকার নারীদের প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এর ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পুষ্টিহীনতা ও পানিবাহিত রোগের প্রকোপও বেড়ে গেছে।

কার্বন নিঃসরণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:

এই সংকটের মূলে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, যা মূলত কার্বন নিঃসরণের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণেই হচ্ছে। শিল্পায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে। যার ফলে বর্ষাকালে অনিয়মিত ও অতিবৃষ্টি হচ্ছে, আবার শুষ্ক মৌসুমে দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি কমে যাওয়ায় মিঠা পানির আধার সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো না গেলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে পানির সংকট আরও প্রকট হবে। বিশ্বব্যাপী কার্বন নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। উন্নত দেশগুলো ব্যাপক হারে কার্বন নিঃসরণ করলেও তার প্রভাব বাংলাদেশসহ ছোট ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর উপর বেশি পড়ছে।

সমাধানের উপায়:

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বহুমুখী উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রথমত, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বড় আকারের জলাধার নির্মাণ, রেইনওয়াটার হারভেস্টিং পদ্ধতির সম্প্রসারণ এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য ডি-সলিনেশন (লবণমুক্তকরণ) প্লান্ট স্থাপন করা যেতে পারে। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ করে সুপেয় পানি উৎপাদন করা সম্ভব।

তৃতীয়ত, পানির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিতে আধুনিক সেচব্যবস্থা, পানির অপচয় রোধ এবং ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা প্রয়োজন।

চতুর্থত, বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগে বাংলাদেশকে আরও সক্রিয় হতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ দাবি করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সবুজায়নের মাধ্যমে কার্বন নিরসনের কাজ করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন যে শুধু ভবিষ্যতের সমস্যা নয়, বরং বর্তমানের এক ভয়াবহ সংকট—উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির অভাব তার অন্যতম উদাহরণ। এই সংকটের সমাধানে এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করে টেকসই সমাধান খুঁজতে হবে। না হলে উপকূলীয় মানুষদের জীবনধারণ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে পড়বে, যা পুরো দেশের অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখনই সময় সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের।

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park