1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালিয়ায় ক্যাশলেস লেনদেনের প্রচারে বাংলা কিউআর, কমবে নগদ টাকার নির্ভরতা পাইকগাছায় বিনা মূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, চিকিৎসাসেবা পেলেন ৩৫০ জন পাইকগাছায় ভাসমান হাসপাতালে তিন মাস বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাইকগাছায় ইউপি সদস্য পদে ফের প্রার্থী হতে চান জামির, অপপ্রচারের অভিযোগ দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে ১৪ এমপিওভুক্ত শিক্ষক, এইচএসসিতে একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য আঠারোবাঁকী নদীর চরে মিলল দুই ব্যক্তির মরদেহ, মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা যশোরে ৯০ বোতল উইনকারেক্সসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কালিয়ার টোনা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় পাস করেনি কেউ, ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা বটিয়াঘাটায় রফিকের খামারে অস্ত্রের ৬ ম্যাগাজিন, গুলি ও রামদা উদ্ধার

দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে ১৪ এমপিওভুক্ত শিক্ষক, এইচএসসিতে একমাত্র পরীক্ষার্থীও অকৃতকার্য

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থী সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজ শাখা থেকে অংশ নিয়েছিলেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। তিনিও পাস করতে পারেননি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। অথচ একই প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখায় রয়েছেন ১৪ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক। শনিবার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের তালিকায় উঠে এসেছে দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের নাম।

 

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে কোনো পরীক্ষার্থী ছিল না। প্রকাশিত ফলাফলে ওই একমাত্র শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হন। ১৯৯৮ সালে দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা চালু করা হয়। বর্তমানে স্কুল শাখায় ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাঁরা সবাই এমপিওভুক্ত এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা পান। তবে কলেজ শাখায় বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ চালু থাকলেও সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক স্বর্ণা রানি বিশ্বাস বলেন, গ্রামীণ এলাকায় হওয়ায় কলেজ শাখায় পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। শিক্ষার্থী কম থাকায় কলেজের পাঠদান কার্যক্রমেও সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “কলেজটি গ্রামীণ এলাকায় হওয়ায় ছাত্র তেমন পাওয়া যায় না। এজন্য শিক্ষকরাও কলেজে আসেন না। শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারেও তাঁদের কোনো উৎসাহ নেই।” শিক্ষার্থী বাড়াতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, এ জন্য প্রতিবছর তাঁকে নিজের পকেট থেকেও টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

 

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার বলেন, কলেজ শাখার অনুমোদন নেওয়ার সময় সেখানে শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু পরে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় অনেক শিক্ষক প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যান। বর্তমান পরিস্থিতিতে কলেজ শাখাটি চালু রাখা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর ভাষায়, “কলেজটি বন্ধ হয়ে গেলেই ভালো।”

 

প্রতিষ্ঠানটির নতুন সভাপতি পরিমল কীর্তন বলেন, তিনি মাত্র এক সপ্তাহ আগে সভাপতির দায়িত্বসংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন। এখনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোনো সভা করতে পারেননি। তাই কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরের দায়িত্ব মূলত স্কুল পর্যায় পর্যন্ত। কলেজ শাখা তাঁদের সরাসরি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। কলেজ পর্যায়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখভাল করেন বলে জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্কুল শাখায় ১৪ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক থাকার পরও কলেজ শাখায় শিক্ষার্থীর এমন সংকট এবং এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় একমাত্র পরীক্ষার্থীরও অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কলেজ শাখায় নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে কি না, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে সংকটের কারণ কী এবং প্রতিষ্ঠানটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park