
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাবরা দক্ষিণ বাড়ির বড় হাজী সাহেবের ঘর আলো করে জন্ম নেওয়া সেই শিশুটিই একদিন হয়ে উঠেছিলেন নড়াইলের গণমানুষের নেতা। তাঁর বক্তব্য শুনতে মানুষ দাঁড়িয়ে পড়ত, মুগ্ধ হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুনত। তিনি ছিলেন নড়াইলের গর্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কালিয়া উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এস এম আবু সাঈদ। ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর কেটে গেছে নয়টি বছর; তবু মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্মৃতি ও কর্মময় জীবনের কথা আজও অমলিন।
অধ্যক্ষ এস এম আবু সাঈদ ১৯৪৭ সালে বর্তমান নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার বাবরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা এস এম আব্দুল মালেক এবং মাতা জহুরন্নেছা। ১৯৬২ সালে তিনি মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি সৈয়দ আমীর আলী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে কালিয়ায় ফিরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে কালিয়ায় পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে তিনি স্বাধীনতার পক্ষে সাহসী অবস্থানের জানান দেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। একই বছরের ১ জুলাই তিনি শহীদ আব্দুস সালাম মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে দৌলতপুর দিবা-নৈশ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে যোগ দেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি জনসেবামূলক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ২৫ মে ১৯৮৫ থেকে ২৪ জুলাই ১৯৮৬ পর্যন্ত কালিয়া উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে দুইবার জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১২ অক্টোবর ১৯৮৮ থেকে ৮ ডিসেম্বর ১৯৯০ পর্যন্ত নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি ও জনসেবায় তাঁর অবদান নড়াইলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। সৎ, যোগ্য, মেধাবী, নিরহংকার ও সদালাপী মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন সর্বজনশ্রদ্ধেয়। রাজনৈতিক মঞ্চে সুবক্তা হিসেবে তাঁর সুনাম ও দক্ষতা ছিল অনন্য। মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের কথা বলার কারণে তিনি অল্প সময়েই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর কর্মময় জীবন ও আদর্শ আজও নড়াইলের মানুষের কাছে স্মরণীয়।
নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলের এই কীর্তিমান পুরুষকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষ। মহান আল্লাহ তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত দান করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।