1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জনবল ও অবকাঠামো সংকট পেরিয়ে সেবার মানোন্নয়নে এগোচ্ছে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর, কালিয়ায় ভার্চুয়ালি যুক্ত উপজেলা প্রশাসন নড়াইলে সুপারি গাছের চারা রোপণ নিয়ে বিরোধ, চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা কালিয়ায় পাউবোর জমির গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, জব্দ করল প্রশাসন তেরখাদায় ভলিবল টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতল বুড়ি গাংনী দল মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদে কালিয়ায় সমাবেশ ও মানববন্ধন গোপালগঞ্জে ইয়াবা-গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, উদ্ধার ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা নড়াগাতীতে ১২ হাজার টাকার বিরোধে যুবককে মারধর, সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ কালিয়ায় ক্যাশলেস লেনদেনের প্রচারে বাংলা কিউআর, কমবে নগদ টাকার নির্ভরতা পাইকগাছায় বিনা মূল্যে চক্ষু ক্যাম্প, চিকিৎসাসেবা পেলেন ৩৫০ জন

জনবল ও অবকাঠামো সংকট পেরিয়ে সেবার মানোন্নয়নে এগোচ্ছে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

তেরখাদা প্রতিনিধি:

চিকিৎসক সংকট, জনবলস্বল্পতা, জরাজীর্ণ ভবন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব—এতসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও খুলনার তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। বেড়েছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা, উন্নতি হয়েছে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও ফিরেছে গতিশীলতা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এসব পরিবর্তনে নানা উদ্যোগ ও নিয়মিত তদারকি করছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলাম হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেবার মান বাড়ানো এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। এর মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগের কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) জোরদার, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা। হাসপাতালের পরিবেশ সুন্দর ও মনোরম করতে বিভিন্ন স্থানে ফুলের চারাও রোপণ করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গতিশীল করতে স্বাস্থ্য সহকারী ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও তাঁদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয় ও জরুরি যোগাযোগ সহজ করতে চালু করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ টেলিফোন যোগাযোগব্যবস্থা।

এ ছাড়া ইপিআই ও বিভিন্ন জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতি মাসের প্রথম মঙ্গলবার ইপিআই-সংক্রান্ত সমন্বয় সভা এবং তৃতীয় মঙ্গলবার মাসিক সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এসব সভার মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয় ও কাজের জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে আরও জানা গেছে, এসব উদ্যোগের ফলে ইউজার ফি আদায়ের পরিমাণ আগের তুলনায় দ্বিগু হয়েছে।

হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল চত্বরে মাদকসেবী ও বখাটেদের উৎপাত এবং ওষুধ চুরির ঘটনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে হাসপাতালের পরিবেশ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরেছে।

তবে এসব ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে রয়েছে প্রকট জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য প্রয়োজনীয় ৩৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ছয়জন। ছয়টি ইউনিয়নে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনার জন্য ৩৬ জন কর্মীর প্রয়োজন হলেও রয়েছেন মাত্র ১৩ জন। এই সীমিত জনবল নিয়েই ইপিআইসহ বিভিন্ন জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্য সহকারী ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব ও কাজের চাপ সামলাতে হচ্ছে।

চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি নার্সের স্বল্পতাও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি একযোগে পাঁচজন নার্স বদলি হওয়ায় এ সংকট আরও প্রকট হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম চিকিৎসক ও নার্স নিয়ে প্রতিদিনের রোগীর চাপ সামাল দিতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

অবকাঠামোগত অবস্থাও বেশ নাজুক। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিকাংশ ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ১৯ শয্যাবিশিষ্ট একটি ভবন সচল রয়েছে। এ ছাড়া একটি চিকিৎসক কোয়ার্টার অস্থায়ী অফিস হিসেবে এবং তৃতীয় শ্রেণির একটি কোয়ার্টার ওষুধের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত অবকাঠামো নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

এতসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের ফলে রোগীদের মধ্যে সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আগে বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসতেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভর্তি রোগীদের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ওষুধ হাসপাতাল থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে। তাঁদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকেরা নিয়মিত সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় ওয়ার্ড পরিদর্শন করছেন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট থাকলেও হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। বিশেষ করে অন্তর্বিভাগের শৌচাগারগুলো আগের তুলনায় পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। হাসপাতালের ভেতরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে জুতা-স্যান্ডেল নির্ধারিত স্থানে রেখে প্রবেশের নিয়মও চালু করা হয়েছে।

তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে মেশিন না থাকায় এ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনটিও দীর্ঘদিন ধরে অচল। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সার্জন ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনীয় এসব সেবা পেতে রোগীদের অন্যত্র যেতে হচ্ছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারপাশে পূর্ণাঙ্গ সীমানাপ্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলামের প্রশাসনিক দক্ষতা, আন্তরিকতা ও নিয়মিত তদারকির ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও মাঠকর্মী নিয়োগের পাশাপাশি অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান করা গেলে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি তেরখাদায় যোগদানের পর থেকেই নানা সীমাবদ্ধতা ও ভঙ্গুর অবকাঠামোর মধ্যেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বাড়ানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মাঠকর্মীর সংকট থাকলেও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে যথানিয়মে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের শতভাগ কর্মতৎপরতা নিশ্চিত করতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চরম সংকট থাকলেও হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের সমাধান হলে তেরখাদাবাসী আরও উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। আগে হাসপাতাল থেকে ওষুধ চুরির ঘটনা ঘটত, তা বন্ধ করা হয়েছে। একইভাবে হাসপাতাল চত্বরে বখাটেদের মাদকসেবনের যে প্রবণতা ছিল, সেটিও বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। আমি যতদিন তেরখাদায় দায়িত্ব পালন করব, ততদিন সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব।”

প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য আরও কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

 

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park