1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইশরাক হোসেনকে আরও যোগ্য পদে মূল্যায়ন করুক বিএনপি সরকারি সেবা সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে যোগানিয়া বাজারে নিরাপত্তা জোরদারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওসির মতবিনিময় গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৭ গোপালগঞ্জে সাড়ে ৭ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক দুর্গাপূজায় দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু, চলছে রাস্তা সংস্কার স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা, স্বামীর সংসারে ফিরলেন গৃহবধূ পহরডাঙ্গায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সেলিম মোল্লার পক্ষে সমর্থন নড়াগাতীতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার কাটেঙ্গায় সুষ্ঠু ও মানবিক সমাজ গড়ার আহ্বান মোল্যা হুমায়ুন কবিরের

ইশরাক হোসেনকে আরও যোগ্য পদে মূল্যায়ন করুক বিএনপি

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

অথই নূরুল আমিন

ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক ঐতিহ্য ও অতীত নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন নেই। তাঁর বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের রাজনীতিতে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তবে আজকের লেখায় তাঁর পারিবারিক পরিচয়ের চেয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েই কথা বলতে চাই।

ঢাকার রাজনীতিতে ইশরাক হোসেন একটি পরিচিত নাম। বিএনপির বহু নেতা-কর্মীর কাছে তিনি জনপ্রিয় একজন নেতা। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বিএনপির রাজনীতিতে তাঁকে আলোচিত মুখ হিসেবে দেখা গেছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে থাকা এবং তাঁদের স্বার্থে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তাঁর প্রতি অনেকের বিশেষ আস্থা তৈরি হয়েছে।

আমার বিবেচনায়, ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের উচিত, দলের নেতাদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততা বিবেচনা করে তাঁদের উপযুক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত করা। ইশরাক হোসেনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে তাঁর স্বেচ্ছায় পদত্যাগের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য ও পদক্ষেপের পেছনে কী রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করেছে, তা নিয়ে নানা আলোচনা থাকতে পারে। তবে একজন রাজনৈতিক নেতার যোগ্যতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু তাঁর পদবিই শেষ কথা হতে পারে না।

ইশরাক হোসেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। সেই পরিচয়ের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই, তাঁর রাজনৈতিক যোগ্যতা ও কর্মস্পৃহাকে কাজে লাগানোর জন্য আরও উপযুক্ত দায়িত্বের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। কোনো ব্যক্তিকে তাঁর পারিবারিক পরিচয়ের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার চেয়ে তাঁর দক্ষতা, আগ্রহ ও কাজের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত।

আমি মনে করি, ইশরাক হোসেনের মতো সক্রিয় ও কর্মতৎপর একজন নেতার জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কিংবা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বিবেচনা করা যেতে পারে। অবশ্যই এ ক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা এবং সরকারের সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখা। এ জন্য মন্ত্রিসভা ও দলীয় সাংগঠনিক কাঠামোয় যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ দায়িত্ব দেওয়া জরুরি। দায়িত্ব বণ্টনে কোনো ধরনের বিতর্ক তৈরি হলে তা সরকার ও দলের ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিটি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ড বিবেচনায় তাঁকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার দাবি অযৌক্তিক নয়। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিএনপির নীতিনির্ধারক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তাঁদের উচিত, দলের অভ্যন্তরে যোগ্য নেতাদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা, কর্মদক্ষতা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়া।

জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেনের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও দলের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আনুগত্যের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে তিনি যেভাবেই ব্যাখ্যা করে থাকুন না কেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সামনে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ইশরাক হোসেন আমার পরিচিত একজন রাজনৈতিক নেতা। তাঁর মধ্যে যে কর্মস্পৃহা ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা আমি দেখতে পাই, তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন বলে মনে করি। আমার বিশ্বাস, যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব পেলে তিনি দল ও দেশের জন্য আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন।

সুতরাং, বিএনপির নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমার আহ্বান—ইশরাক হোসেনকে শুধু একটি পদে অধিষ্ঠিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর যোগ্যতা, দক্ষতা ও রাজনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় আরও উপযুক্ত দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবুন। এতে ব্যক্তি ইশরাক হোসেনের পাশাপাশি দল ও সরকারও উপকৃত হতে পারে।

অথই নূরুল আমিন

১৯ অক্টোবর ২০২৬

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park