
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাঐসোনা ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত শনিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। নামাজের আগে ও পরে সমাজ ও ধর্মীয় নেতারা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, যা এলাকার সামাজিক ঐক্য ও উন্নয়নের বার্তা বহন করে।
নামাজ শুরুর আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বাঐসোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ মো. ফোরকান মোল্লা। তিনি বলেন, “একটি সমাজের উন্নয়ন নির্ভর করে তার মানুষের ঐক্যের ওপর। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতভেদ থাকলেও, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও মিলেমিশে থাকার মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়া সম্ভব।” তিনি এলাকায় হানাহানি ও বিভেদের অবসান ঘটিয়ে সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। উপস্থিত মুসল্লিরা তার বক্তব্যে একমত পোষণ করেন।
হাফেজ মো. জাকারিয়া ঈদগাহ মাঠ ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ও নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন।
এরপর সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঈদের নামাজ শুরু হয়। নামাজে ইমামতি করেন মওলানা আব্দুল আজিজ। নামাজ শেষে দেওয়া খুতবায় তিনি পবিত্র ঈদুল আজহার তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং বলেন, “ঈদুল আজহা কেবল উৎসব নয়, এটি একজন মুমিনের জন্য আত্মত্যাগ ও আনুগত্যের পরীক্ষার দিন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর আদেশে প্রিয় পুত্রকে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন—এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা শিখি কীভাবে ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি বড়। এই ত্যাগের শিক্ষা শুধু পশু কোরবানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আমাদের নফস, হিংসা, অহংকার, হানাহানি ও হিংস্রতা কোরবানি দিতে হবে। সমাজে সহানুভূতি, ভ্রাতৃত্ব ও সহনশীলতা গড়ে তোলাই প্রকৃত ঈমানদারের কাজ।”
তিনি আরও বলেন, “আসুন, ঈদের এই পবিত্র দিনে আমরা কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য হৃদয়ে ধারণ করি এবং গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াই। ইসলাম শান্তি ও সহমর্মিতার ধর্ম—যেখানে হানাহানি, বিদ্বেষ ও অন্যায়-অবিচারের কোনো স্থান নেই।” খুতবার শেষে তিনি দেশ ও জাতির শান্তি, উন্নয়ন এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।
স্থানীয়দের মতে, এবারের ঈদের জামাত ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, মহিমান্বিত এবং সমাজিক সচেতনতামূলক বার্তায় পরিপূর্ণ। ঈদগাহ মাঠে ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সম্প্রীতির স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে।