
দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার পাঁচখালী চরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তরমুজচাষিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন মোস্তফা খলিফা (৬২), আউয়াল ফকির (৬০), সিদ্দিক ফকির (৪০), হারুন মুন্সি (৫৩), রতন বয়াতি (৩৮), আবুল কালাম হাওলাদার (৬০), ইউনুস হাওলাদার (৭০), ওহবা (৩৫), শাহ আলম (৭৬), হাসেম হাওলাদার (৬০), দুলাল হাওলাদার (৫০), মোয়াজ্জেম সরদার (৫৮), মনির খন্দকার (৫৫), শাহ আলম সিকদার (৪৫) ও মালেক হাওলাদার (৫৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচখালী চরে রেকর্ডীয় মালিকানাধীন জমি চাষাবাদের উপযোগী করতে ভেকু দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ করছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। জমি নিয়ে বিরোধ নিরসনে কয়েক দফা থানায় বৈঠকও হয়। পরে পুলিশের নির্দেশে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে একটি ট্রলারে করে মনির চৌকিদার, সাকুর হাওলাদার, নূরে আলম, ইস্কান্দার ও রিয়াজ হাওলাদারসহ ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি চরে আসেন। পরে তাঁরা চাষিদের ওপর হামলা চালান। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহতদের উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোস্তফা খলিফা ও আউয়াল ফকিরকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মোস্তফা খলিফা, সিদ্দিক ফকির ও ইউনুস হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, তাঁরা কাজ বন্ধ রেখে সকাল ১১টার দিকে খাবার খেতে বসেছিলেন। এ সময় নদীপথে একটি ট্রলারে করে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি এসে তাঁদের ট্রলারের কাছাকাছি থামেন। পরে ইস্কান্দার, মনি চৌকিদার ও বেল্লাল ফরাজিসহ কয়েকজন নেমে তাঁদের ওপর হামলা চালান। তাঁদের দাবি, হামলাকারীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল এবং তাঁদের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় চাল, ডাল, ডিজেল, নগদ টাকা ও মুঠোফোন লুট করে নেওয়া হয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।
তবে অভিযুক্ত ইস্কান্দার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ভেকুর কাজে চরে গিয়েছিলেন। কাউকে মারধর করেননি; বরং মারামারি থামানোর চেষ্টা করেছেন। ওই চরে তাঁর কোনো জমিজমাও নেই বলে দাবি করেন তিনি।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।