
নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ১০ নম্বর পহরডাঙ্গা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী পাঁচজন ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে পাঁচজনের মধ্য থেকে একজনকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এলাকার দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখা এবং নিজেদের এলাকার প্রার্থীকে বিজয়ী করাই তাঁদের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় বাগুডাঙ্গা, মূলশ্রী, চর সিংগাতী, চাপাইল ও চর মধুপুর গ্রামের শত শত মানুষের অংশগ্রহণে একটি বহর সি এম বি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে বহরটি পাখিমারা এলাকার তিনটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা। কর্মসূচি শেষে তাঁদের অংশগ্রহণে ভোজের আয়োজন করা হয়।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা পাঁচজন হলেন—নাদিরা হক জোসনা, সিকদার আহমেদুজ্জামান মিরাজ, মল্লিক কামরুজ্জামান হিটু, খান মফিজুর রহমান মফিজ ও শেখ আরিফুল ইসলাম আরিফ।
এ সময় প্রার্থীরা বলেন, বাগুডাঙ্গা, মূলশ্রী, চর সিংগাতী, চাপাইল ও চর মধুপুর গ্রামের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। তাঁরা অতীতের সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সৌহার্দ্য অটুট রাখতে চান। চেয়ারম্যান পদে প্রত্যেকেরই প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ থাকলেও ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার চেয়ে এলাকার বৃহত্তর স্বার্থ ও সামাজিক ঐক্যকে তাঁরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তাঁরা আরও বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজেদের এলাকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পাঁচজনের মধ্যে আলোচনা হবে। পারস্পরিক মতামত, যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে একজনকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হবে। এরপর অন্যরা তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
প্রার্থীদের ভাষ্য, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চান না তাঁরা। বরং আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছে সম্মিলিতভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করতে চান। তাঁদের মতে, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঐক্য বজায় রাখতে পারলে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এ সময় তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে বিজয় অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “ঐক্যই আমাদের হাতিয়ার। ইনশাআল্লাহ, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয় ছিনিয়ে আনব।”
স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচি শেষ হয়। পাঁচ গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণে প্রার্থীদের এ ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
তবে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে চূড়ান্তভাবে কাকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা।