
বিশেষ প্রতিনিধি: চৌধুরী জুয়েল রানা
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় জমির ভোগদখল নিয়ে বিরোধের ঘটনায় সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেছে উপজেলা ভূমি অফিস। তদন্ত প্রতিবেদনে যোগানিয়া মৌজার ৬৭ শতক জমির মধ্যে দক্ষিণ পাশের ৩৪ শতক জমি বিবাদীপক্ষ প্রায় ৪০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সম্প্রতি প্রতিমা তৈরির জন্য বাঁশ কাটতে গেলে বাধা, গালিগালাজ ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে নারায়ণ চন্দ্র রায়ের পরিবার।
উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জিন্নাতুল ইসলাম স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনটি গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনটি এম.পি-২৬১/২৬ নম্বর মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, যোগানিয়া মৌজার এসএ ১৬৪৬ নম্বর খতিয়ানের ১৬৮০ নম্বর দাগে মোট ৬৭ শতক জমি রয়েছে। জমির ভোগদখল নিয়ে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি হয়। আদালতের নির্দেশে উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দাগের দক্ষিণ পাশের ৩৪ শতক জমি বাঁশবাগান শ্রেণির। বিবাদীপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছে। সরেজমিন তদন্তের সময় উপস্থিত স্থানীয় ব্যক্তিরাও বিবাদীপক্ষের দীর্ঘদিনের ভোগদখলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসএ রেকর্ডীয় মালিকের কাছ থেকে ১৯৭৯ সালে ১৬৮০ নম্বর দাগের ৩৭ শতক জমি কবলা দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। পরে ১৯৮৪ সালে সংশ্লিষ্ট দলিলের মাধ্যমে জমি হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা রয়েছে। দলিল সম্পাদনের পর থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষ জমিটি ভোগদখল করে আসছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সরেজমিন তদন্তকালে উপস্থিত মিরাজ শেখ, কুদ্দুস মোল্যা ও মহানন্দ বন্ধু সিংসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ওই দাগের ৬৭ শতক জমির মধ্যে দক্ষিণ পাশের ৩৪ শতক জমি বিবাদীপক্ষ প্রায় ৪০ বছর ধরে ভোগদখল করছে।
সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে কানুনগোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৬৮০ নম্বর দাগের উত্তর পাশের ৩৩ শতক জমি বাদীপক্ষ এবং দক্ষিণ পাশের অবশিষ্ট ৩৪ শতক জমি বিবাদীপক্ষ পৃথক সীমানা দিয়ে প্রায় ৪০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জিন্নাতুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তা আদালতে পাঠিয়েছেন।
এদিকে, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রতিমা তৈরির জন্য জমি থেকে বাঁশ কাটতে গেলে কৃষ্ণ রায় ও বলাই রায় বাধা দেন বলে অভিযোগ করেছে নারায়ণ চন্দ্র রায়ের পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন পেশিশক্তি প্রয়োগ, গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করেন।
অন্যদিকে, কৃষ্ণ রায় বলেন, জমি নিয়ে তাঁরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। জমির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধের বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।