1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত তৃতীয় ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক লঞ্চিং ৩৫তম জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই নৌবাহিনীর ১৮ পদক লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি, আজ ফিরছেন আরও ১৭২ জন টোকিওর মতো ঢাকাকে সাজাতে চান প্রধানমন্ত্রী, বাস্তবায়ন করতে হবে যেসব উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর উদারতার পরিচয়: জাপান সফরে আমজনতার দলের তারেক রহমানকে সফরসঙ্গী করা পাইকগাছায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত ইউএনওর তত্ত্বাবধানে নতুন উদ্যোগে এগিয়ে চলছে পাইকগাছা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সাংবাদিক শিহাব উদ্দিনের ঘরে নতুন অতিথি, তৃতীয় পুত্রসন্তানের বাবা হলেন তিনি তেরখাদায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত কালিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধ, ৩৪ শতক জমি বিবাদীপক্ষের দীর্ঘদিনের দখলে থাকার তথ্য তদন্ত প্রতিবেদনে

টোকিওর মতো ঢাকাকে সাজাতে চান প্রধানমন্ত্রী, বাস্তবায়ন করতে হবে যেসব উদ্যোগ

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

অথই নূরুল আমিন

জাপানের রাজধানী টোকিওর আদলে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে সাজিয়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমানে জাপান সফরে গিয়ে তিনি এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রশ্ন হলো, টোকিওর মতো আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তুলতে হলে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে?

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, যানজট, বায়ুদূষণ, আবাসনসংকট এবং নাগরিক সেবার সীমাবদ্ধতা নগরজীবনকে ক্রমেই দুর্বিষহ করে তুলছে। রাজধানীর বিপুলসংখ্যক মানুষ ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। পরিকল্পিত নগরব্যবস্থার অভাব এবং ভবন নির্মাণে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ঢাকা তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শুধু ঘোষণা বা স্বপ্ন দেখলেই হবে না; প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কঠোর আইন প্রয়োগ, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণে কার্যকর উদ্যোগ।

 

১. বহুতল ভবন নির্মাণে পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রণ

ঢাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নতুন করে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। যেসব এলাকায় অবকাঠামো ও নাগরিক সেবা অপর্যাপ্ত, সেখানে অপরিকল্পিত বহুতল ভবন নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন ভবনের উচ্চতা সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নগর পরিকল্পনা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, জমির ব্যবহার এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর সক্ষমতা বিবেচনায় নিতে হবে।

 

২. গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন

ঢাকার বিপুলসংখ্যক গৃহহীন, ভূমিহীন ও ভাসমান মানুষের জন্য ‘নিরাপদ আশ্রয়’ নামে পুনর্বাসন প্রকল্প চালু করা যেতে পারে। এমন আবাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ নিরাপদে বসবাসের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।

অতীতে বিভিন্ন সরকারের পুনর্বাসন প্রকল্পে যেসব সীমাবদ্ধতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পুনর্বাসন যেন শুধু কাগজে-কলমে বা লোকদেখানো কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করেই পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

 

৩. যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা

ঢাকার যানজট কমিয়ে আনা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে।

ক) লেখকের প্রস্তাবিত ‘ক্লাব মি সি রোড’ স্থাপনের পরিকল্পনাটি বিস্তারিতভাবে যাচাই করে এর সম্ভাব্যতা, নির্মাণব্যয়, অর্থায়ন এবং সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্ধারণ করতে হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নযোগ্য হলে তা ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবে, সে বিষয়ে সমীক্ষা প্রয়োজন।

খ) ঢাকার চারপাশে আধুনিক ‘ফোর স্টার টার্মিনাল’ নির্মাণের প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে। এসব টার্মিনালে যাত্রীসেবা, গণপরিবহন সংযোগ, বিশ্রামাগার, শৌচাগার, খাবারের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকতে হবে। একই সঙ্গে টার্মিনালগুলো থেকে সম্ভাব্য আয় ও পরিচালনব্যয়ের বাস্তবসম্মত হিসাব নির্ধারণ করতে হবে।

গ) রাজধানীতে দোতলা বাসের সংখ্যা বাড়িয়ে গণপরিবহনব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা যেতে পারে। পাশাপাশি একতলা বাস, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও লেগুনাসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবটি বাস্তবতার আলোকে পর্যালোচনা করতে হবে। বিকল্প পরিবহন নিশ্চিত না করে এসব যানবাহন বন্ধ করা হলে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত গণপরিবহন নিশ্চিত করেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।

ঘ) রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের একটি অংশ ঢাকার আশপাশের পরিকল্পিত এলাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে রোগীদের চিকিৎসাসেবা, জরুরি যোগাযোগ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।

ঙ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর রাজধানীকেন্দ্রিক চাপ কমানোর বিষয়টি আলোচনায় আনা যেতে পারে। প্রয়োজনে উত্তরা, গাজীপুর কিংবা অন্যান্য উপযুক্ত এলাকায় নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চাপ বিকেন্দ্রীকরণ করা সম্ভব।

চ) মোহাম্মদপুর, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত বিহারি ক্যাম্পগুলোর বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে গাজীপুর, মানিকগঞ্জ কিংবা দেশের অন্য কোনো উপযুক্ত এলাকায় স্বেচ্ছাসম্মত ও মানবিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের সম্মতি, নাগরিক অধিকার, জীবিকা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

ছ) রাজধানীর স্থায়ী ও অস্থায়ী বাসিন্দাদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত জনসংখ্যা তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। লেখকের প্রস্তাবিত ‘রাজধানী জনসংখ্যা জরিপ ব্যাংক’-এর ধারণাটি এ ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জনসংখ্যা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবার চাহিদা নিরূপণ করা সম্ভব হবে। তবে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

৪. ঢাকার আশপাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তর ও নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা

রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারণে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবককে যাতায়াত করতে হয়। এতে যানজট ও জনসংখ্যার চাপ বাড়ে। তাই ঢাকার আশপাশের পরিকল্পিত এলাকায় নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

 

৫. রাজউক ও দুই সিটি করপোরেশনে দুর্নীতি বন্ধ

ঢাকাকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং দুই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ভবনের নকশা অনুমোদন, জমির ব্যবহার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবা প্রদানের প্রতিটি পর্যায়ে অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা, নিয়মিত নিরীক্ষা, ডিজিটাল সেবা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির স্বচ্ছ পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। দায়িত্বে অবহেলা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

৬. আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ

ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বাড়ির নিচতলা কিংবা পুরো ভবন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও দোকানপাট, কোথাও ক্লিনিক, হাসপাতাল কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ফলে আবাসিক এলাকার পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এ সমস্যা সমাধানে প্রতিটি আবাসিক এলাকায় পরিকল্পিতভাবে আলাদা শপিং সেন্টার, মার্কেট ও বাণিজ্যিক অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে। আবাসিক ভবনে অনুমোদনহীন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং ভবনের ব্যবহার নির্ধারণে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা পাওয়ার সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে।

 

৭. ঢাকার চারপাশের বেড়িবাঁধ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা

রাজধানীর চারপাশের বেড়িবাঁধ ও সংলগ্ন এলাকাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, অবৈধ দখল এবং পরিবেশদূষণ বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সবুজায়ন, হাঁটার পথ এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা গড়ে তোলার মাধ্যমে এসব এলাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক করে তোলা যেতে পারে।

 

৮. পুরোনো বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর পরিকল্পিত পুনর্বিন্যাস

চকবাজার, বাংলাবাজার ও কারওয়ান বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব এলাকার যানজট, পণ্য পরিবহন এবং জনসমাগমের চাপ কমাতে পরিকল্পিত পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন। কোনো কোনো এলাকায় আবাসিক সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

তবে এসব এলাকার ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবিকা বিবেচনায় না নিয়ে হঠাৎ করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করা ঠিক হবে না। বিকল্প বাজার, গুদাম, পরিবহন সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনতে হবে।

 

৯. জনসংখ্যা ও আবাসনসংক্রান্ত তথ্যভান্ডার তৈরি

ঢাকায় কত মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন, কতজন অস্থায়ীভাবে থাকেন, কত মানুষ কর্মসূত্রে প্রতিদিন রাজধানীতে প্রবেশ করেন—এসব তথ্যের নির্ভরযোগ্য হিসাব থাকা জরুরি। এ জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক জরিপ এবং সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরি করা যেতে পারে।

বিশেষ করে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে। তবে কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা যাবে না। শুধু কর্মহীন হওয়ার কারণে কাউকে রাজধানীতে বসবাসের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পরিবর্তে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

 

১০. কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

ঢাকায় অপরাধ, ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য নিরাপত্তাজনিত সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরাধীদের শনাক্তকরণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত সিসিটিভি, সড়কে আলোর ব্যবস্থা এবং দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বেকারত্ব কমাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। তবে কর্মহীন ব্যক্তিদের ঢাকায় বসবাস করতে না দেওয়ার মতো পদক্ষেপের পরিবর্তে তাঁদের কাজের সুযোগ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়াই হবে অধিক কার্যকর ও মানবিক সমাধান।

 

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ

ঢাকাকে টোকিওর মতো আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। টোকিওর উন্নয়নের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা, উন্নত গণপরিবহন, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক শৃঙ্খলা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি। তাই শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না; নগর পরিচালনার সামগ্রিক ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনতে হবে।

ঢাকাকে সুন্দর করতে হলে প্রথমেই অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধ করতে হবে। আবাসন, পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি রাজধানীকেন্দ্রিক চাপ কমাতে দেশের অন্যান্য শহরেও উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

প্রায় চার দশক ধরে গড়ে ওঠা নানা সমস্যায় জর্জরিত একটি মহানগরীকে উন্নত ও পরিকল্পিত শহরে রূপান্তর করতে একাধিক ধাপে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, ধারাবাহিকতা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং নাগরিকদের সহযোগিতা।

সবশেষে, জাপানের রাজধানী টোকিওর আদলে ঢাকাকে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সাধুবাদ জানাই। তবে এই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে ঘোষণার পাশাপাশি প্রয়োজন সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবসম্মত অর্থায়ন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং কার্যকর বাস্তবায়নব্যবস্থা।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর সফল হোক। ঢাকা হয়ে উঠুক পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য মহানগরী—এটাই দেশের মানুষের প্রত্যাশা।

 

অথই নূরুল আমিন

প্রধান মুখপাত্র, জাতীয় মানবসম্পদ উইং

২৯ অক্টোবর ২০২৬

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park