
স্টাফ রিপোর্টার মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত চারদলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে টাইব্রেকারে চর কুলিয়া ফুটবল একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সিএমবিএম ফুটবল একাদশ। শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) দুপুর ২টায় সিএমবি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে পাঁচ গ্রামের যুবসমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। খেলা ঘিরে মাঠে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা বিপুলসংখ্যক দর্শকের উচ্ছ্বাস ও করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।
টুর্নামেন্টে স্থানীয় চারটি দল অংশ নেয়। প্রথম খেলায় বৌলতল ফুটবল একাদশের মুখোমুখি হয় চর কুলিয়া ফুটবল একাদশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ২-০ গোলে জয় পেয়ে ফাইনালে ওঠে চর কুলিয়া। দ্বিতীয় খেলায় সিএমবিএম ফুটবল একাদশ ৪-০ গোলে সারুলিয়া ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
এরপর ফাইনালে মুখোমুখি হয় সিএমবিএম ফুটবল একাদশ ও চর কুলিয়া ফুটবল একাদশ। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই জয় নিশ্চিত করতে না পারায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে আশ্রয় নিতে হয় টাইব্রেকারের। সেখানে স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে ৪-১ গোলে জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সিএমবিএম ফুটবল একাদশ।
খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হোসেন আলী। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়ানুরাগী, বিভিন্ন গ্রামের যুবসমাজ এবং বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন। খেলা পরিচালনায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন শাহরিয়ার স্বাধীন, জুয়েল মাহমুদ ও তমাল ঘোষ।
খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। চ্যাম্পিয়ন সিএমবিএম ফুটবল একাদশকে ২১ ইঞ্চি এবং রানার্সআপ চর কুলিয়া ফুটবল একাদশকে ১৯ ইঞ্চি মনিটর পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়।
পাঁচ গ্রামের যুবসমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। আয়োজকদের এমন উদ্যোগ তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক ঐক্য, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকলে তরুণ প্রজন্ম মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে খেলাধুলায় নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ ক্রীড়াঙ্গনও আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।