
নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়ায় স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা করার পর স্বামীর সংসারে ফিরে এসেছেন শাহনাজ আক্তার নামে এক গৃহবধূ। তাঁর অভিযোগ, সৎ বাবা মনিরুজ্জামান ও মা ফাতেমা বেগমের প্ররোচনা এবং চাপের মুখে তিনি ওই মামলা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি স্বামী সৌরভ দেওয়ানের সঙ্গে সংসার করতে চান। তবে তাঁর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মা ও সৎ বাবা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে লোহাগড়া উপজেলার মদিনাপাড়ায় স্বামীর ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন শাহনাজ। এ সময় তিনি নিজের ও অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শাহনাজ আক্তার বলেন, সৌরভ দেওয়ানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে সাত মাস আগে। বিয়ের পর তাঁদের সংসার ভালোই চলছিল। এর মধ্যে তাঁর মা ও সৎ বাবা শ্বশুরের কাছে টাকা ধার চান। শ্বশুর টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে তাঁর মা ও সৎ বাবা শ্বশুরের বিরুদ্ধে চেক ও স্বর্ণ নেওয়ার অভিযোগে মামলা করেন বলে দাবি করেন তিনি।
শাহনাজের ভাষ্য, চলতি মাসের ৫ তারিখে তাঁর মা তাঁকে জানান, নানু অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ কথা শুনে তিনি বাবার বাড়ি যেতে রাজি হন। পরে পুলিশ নিয়ে গিয়ে তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাঁকে দিয়ে স্বামী সৌরভ দেওয়ান, শ্বশুর নাজিম দেওয়ান, শাশুড়ি ও দেবরের বিরুদ্ধে মামলা করানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাহনাজ আরও বলেন, তাঁর শাশুড়ি ওই মামলায় কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এবং শ্বশুর এখনো কারাগারে রয়েছেন। তাঁর দাবি, মা ও সৎ বাবা তাঁকে মারধর করেছেন। এ ছাড়া জোর করে মামলা করানোর অভিযোগও করেন তিনি।
নিজের গর্ভের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহনাজ বলেন, তিনি গর্ভবতী। তাঁর অনাগত সন্তানের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এ কারণে বাবার বাড়ি থেকে চলে এসে স্বামীর কাছে ফিরে এসেছেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চান এবং আগে করা মামলা প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
এদিকে, শাহনাজ স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসার পর তাঁর মা ফাতেমা বেগম ও সৎ বাবা মনিরুজ্জামান সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় শাহনাজের মুঠোফোন নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে শাহনাজের হাত কেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পরে সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ফাতেমা বেগম ও মনিরুজ্জামান মুঠোফোনটি নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে ফাতেমা বেগম দাবি করেন, ফোনটি শাহনাজের নয়, তাঁর নিজের। অন্যদিকে, শাহনাজকে দিয়ে জোরপূর্বক মামলা করানো এবং তাঁর গর্ভের সন্তানের ক্ষতি করার চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেন তাঁরা।
ঘটনাটি লোহাগড়া থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ আসার বিষয়টি জানতে পেরে মনিরুজ্জামান ও ফাতেমা বেগম সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।