
বিশেষ প্রতিনিধি চৌধুরী জুয়েল রানা
টানা অতিবৃষ্টিতে নড়াইলের নড়াগাতী থানার যোগানিয়া এলাকার নদীভাঙন পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙনের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। বসতবাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যোগানিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙনপ্রবণ এলাকা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর কয়েকটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও আংশিক ধসে পড়েছে। এতে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এলাকার দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের কর্মসংস্থান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না থাকায় তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত সরকারি ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাঐসোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আহম্মদী বাবলু বলেন, “নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলো এখন চরম আতঙ্কে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অল্প সময়ের মধ্যেই বসতঘরসহ যোগানিয়া থেকে নড়াগাতী যাওয়ার প্রধান সড়ক, বিশেষ করে সোসাইট ঘাটসংলগ্ন সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের আতঙ্কে থাকতে হয়। স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য পানি বাড়লেই বসতভিটা হারানোর শঙ্কা দেখা দেয়। এবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়কেন্দ্র সংস্কার এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয়দের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা এবং খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।
NGS/MMH