
নড়াগাতী (নড়াইল) প্রতিনিধি:
নড়াগাতীর রাজনৈতিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জনকল্যাণমূলক রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মরহুম অ্যাডভোকেট চৌধুরী শহিদুর রহমান (শহিদ চৌধুরী)-এর নাম। আজ তাঁর ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। দীর্ঘ ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এ অঞ্চলের মানুষের স্মৃতি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তিনি আজও সমানভাবে অম্লান।
অ্যাডভোকেট চৌধুরী শহিদুর রহমান ছিলেন কালিয়া থানার প্রথম ছাত্রলীগ কমিটির সাধারণ সম্পাদক। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি একজন সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং যুদ্ধকালীন কালিয়া থানার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ছিলেন একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি নড়াগাতী থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (আহ্বায়ক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়দের মতে, নড়াগাতী থানা প্রতিষ্ঠার দাবিকে বাস্তবে রূপ দিতে তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। জনমানুষের অধিকার আদায়, সামাজিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তুলতে তিনি আজীবন নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন মানবিক মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়। মানুষের প্রতি তাঁর ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দানশীলতা, সততা, বিনয়, মিষ্টভাষিতা ও হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব তাঁকে দল-মত নির্বিশেষে সকলের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। তাঁর সান্নিধ্যে আসা মানুষ আজও তাঁর মানবিক গুণাবলির কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের সদস্যরা জানান, সময়ের ব্যবধানে ২৬ বছর পার হলেও তাঁর শূন্যতা আজও পূরণ হয়নি। জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁরা তাঁর আদর্শ, পরামর্শ ও মূল্যবোধকে গভীরভাবে অনুভব করেন। এলাকার প্রবীণ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও তাঁর স্মৃতিচারণ করে বলেন, নড়াগাতীর রাজনৈতিক ও সামাজিক বিকাশে তাঁর অবদান ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, তিনি যে উন্নত, ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ নড়াগাতীর স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
২৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে মরহুম অ্যাডভোকেট চৌধুরী শহিদুর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন তাঁর পরিবার, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁর জীবনের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন—এই দোয়া ও প্রত্যাশা সবার।
NGS/MMH