
খুলনা প্রতিনিধি
খুলনায় চার সাংবাদিকের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা, হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং খুলনা মহানগরীতে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিল্টন, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, এমইউজে খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. নূরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, নির্বাহী সদস্য মো. এরশাদ আলী ও কে এম জিয়াউস সাদাত, বিএফইউজের সাবেক নির্বাহী সদস্য এইচ এম আলাউদ্দিন, এমইউজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয়, সাংবাদিক নেতা মাশরুর মুর্শেদ, আহমদ মুসা রঞ্জু, সেলিম গাজী, মোজাহিদুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ ইমরান, ওবায়দুর রহমান পলাশ, তানভীর ইসলাম প্রান্ত, রোমানিয়া প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ জুলাই রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে খুলনা সদর থানাধীন শান্তিধাম মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন এসএ টিভির খুলনা ব্যুরো প্রধান ও এমইউজে খুলনার কোষাধ্যক্ষ রকিবুল ইসলাম মতি, স্টার নিউজের খুলনা ব্যুরো প্রধান ও খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, দৈনিক খুলনাঞ্চলের স্টাফ রিপোর্টার সৈয়দ হুমায়ুন কবীর রানা, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের খুলনা ব্যুরো প্রধান আওয়াল শেখসহ কয়েকজন সাংবাদিক। এ সময় মোটরসাইকেলে এসে দুই দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
গুলিটি সাংবাদিক রকিবুল ইসলাম মতির বসে থাকা টুলে আঘাত করে। পরে গুলিটি আওয়াল শেখের বুকের ডান পাশ স্পর্শ করে বেরিয়ে গেলে তিনি আহত হন। হামলার পর দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা আহত আওয়াল শেখকে উদ্ধার করে খুলনার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, খুলনার সাংবাদিক সমাজ বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। অতীতে খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক জন্মভূমির সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বালু, দৈনিক সংবাদের খুলনা ব্যুরো প্রধান মানিক চন্দ্র সাহা, এমইউজে খুলনার সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সংগ্রামের খুলনা ব্যুরো প্রধান শেখ বেলাল উদ্দিন এবং দৈনিক পূর্বাঞ্চলের ক্রাইম রিপোর্টার হারুন অর রশীদ খোকনসহ নিহত সাংবাদিকদের হত্যার বিচার নিশ্চিত হলে এ ধরনের হামলার সাহস সন্ত্রাসীরা পেত না বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও দাবি করা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে খুলনা মহানগরীতে কর্মরত সব সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর এ হামলা একটি গুরুতর হুমকি। যারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত, তারা শুধু আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী নয়, বরং বাক্স্বাধীনতারও শত্রু। সাংবাদিকরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে মুক্ত সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক।
NGS/MMH