
মো. শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
দীর্ঘ দুই বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ক্যাশ কাউন্টার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৬১২ টাকা চুরির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গোপালগঞ্জ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামি আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ সদর থানার জিআর মামলা নং-১০ (তারিখ: ৪ জুলাই ২০২৪), পেনাল কোডের ৩৮০ ধারায় দায়ের হওয়া মামলাটি প্রথমে সদর থানা তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (এফআরটি) দাখিল করে। পরে মামলার বাদী নারাজি আবেদন করলে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই, গোপালগঞ্জ।
তদন্তে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ জুলাই দুপুর ২টা ৪৭ মিনিটে গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ক্যাশ কাউন্টারের গ্লাসের ফাঁক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে নিচের তাকে রাখা একটি শপিং ব্যাগ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৬১২ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি।
পিবিআইর তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, অভিযুক্ত মো. টিটন খান (৩৫), পিতা- হারুন খান, গ্রামের বাড়ি পানিগাতি, থানা- দিঘলিয়া, জেলা- খুলনা, অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে ছিলেন।
পরে গত ৫ জুলাই ২০২৬ আদালতের অনুমতি নিয়ে টিটন খানকে এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে টিটন খান চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানান। বুধবার (১৫ জুলাই) তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। এছাড়া সিডিএমএস (CDMS) পর্যালোচনায় অভিযুক্ত টিটন খানের বিরুদ্ধে আরও চারটি চুরির মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
পিবিআই, গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ক্লুলেস চুরির রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পিবিআইয়ের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
NGS/MMH