
বিশেষ প্রতিনিধি: চৌধুরী জুয়েল রানা
নড়াইলের নড়াগাতী থানার মাউলী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে নবগঙ্গা নদীর ভয়াবহ ভাঙন দিন দিন আরও ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী শত শত পরিবার। দ্রুত স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ইসলামপুর গ্রামে নবগঙ্গা নদীর তীরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে শতাধিক নারী-পুরুষ, কৃষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নদীভাঙন রোধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই নবগঙ্গা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বছরের পর বছর ধরে ভাঙনের কারণে ইসলামপুর গ্রামের শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে আরও ৮০ থেকে ৯০টি বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা বা জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল বয়ে আনেনি। ফলে প্রতি বর্ষায় নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।
বক্তারা বলেন, ইসলামপুর এলাকায় অন্তত দেড় কিলোমিটার নদীতীরজুড়ে টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে ভাঙন অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা বলেন, “আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু তার আগে আমাদের বসবাসের জায়গাটা রক্ষা করতে হবে। প্রতি বছর ভাঙনের ভয়ে ঘুমাতে পারি না। আজ যাদের ঘর আছে, কাল তাদের ঘর থাকবে কি না, সেই অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে।”
তারা আরও বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ইসলামপুর গ্রামের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে শুধু বসতবাড়িই নয়, কৃষি উৎপাদন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং মানুষের জীবন-জীবিকাও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণ, ভাঙনকবলিত পরিবারের পুনর্বাসন এবং নদীতীর রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে এলাকাবাসী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।