
আশরাফুজ্জামান গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল কাশিয়াবাড়ীতে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পলাশবাড়ী-কিশোরগাড়ী সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে গণেশপুর বাজার থেকে বাঁধের মুখ পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে পাকা সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কাশিয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল কৃষিনির্ভর এলাকা। প্রতি মৌসুমে এখানে ভুট্টা, গম, ধানসহ বিভিন্ন রবিশস্য উৎপাদিত হয়। এসব কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় বড় ট্রাক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ছোট যানবাহন, অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচলেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে স্কুল-কলেজের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। ভাঙা রাস্তা ও বড় গর্তের কারণে তাদের নিরাপদ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাজু প্রামানিক বলেন, “রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন লিটন বলেন, “রাস্তার ভাঙা অংশগুলো দিন দিন আরও বড় গর্তে পরিণত হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। কাশিয়াবাড়ী থেকে পলাশবাড়ীতে যাতায়াতের এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। আমরা উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরুর দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় শিক্ষার্থী রাকিব বলে, “ভাঙা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যেতে খুব ভয় লাগে। কখন দুর্ঘটনা ঘটে, সেই আতঙ্ক নিয়েই চলাচল করতে হয়।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ কমানো, কৃষিপণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখা, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে গণেশপুর বাজার থেকে বাঁধের মুখ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করা হোক।
NGS/MMH