
মো. শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
সময়ের সঙ্গে পাল্টে গেছে গ্রামবাংলার যোগাযোগব্যবস্থা। কাঁচা রাস্তার জায়গায় হয়েছে পাকা সড়ক, সেতু-কালভার্টে সহজ হয়েছে চলাচল। তবুও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি বাওড়ে এখনো মানুষের ভরসা একটি খেয়া নৌকা। সেই নৌকার বৈঠা হাতে প্রতিদিন জীবনসংগ্রামে নেমে পড়েন বাকপ্রতিবন্ধী মাঝি মো. রসুল খান।
বর্ণি ও কুশলী ইউনিয়নের মানুষের জন্য বাওড়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের পথ। বিশেষ করে স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও হাটে যাওয়া মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এই খেয়া নৌকা।
বর্ণি ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রসুল খান দীর্ঘদিন ধরে খেয়া চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন বৈঠা হাতে মানুষকে নিরাপদে পারাপার করান তিনি। প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে ১০ টাকা ভাড়া নেন। প্রতিদিন খেয়া চালিয়ে তার আয় হয় গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, যা দিয়েই চলে তার সংসার।
স্থানীয়রা জানান, সপ্তাহে দুই দিন কুশলী হাট বসে। ওই দুই দিনে যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রসুল খানের আয়ও কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে বছরের অন্যান্য সময় আয় সীমিত থাকায় সংসার চালাতে তাকে নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এই পথে কালাম শেখ, হাশেম ও কায়সারসহ কয়েকজন মাঝি খেয়া চালাতেন। সময়ের ব্যবধানে তারা সরে গেলেও বর্তমানে একাই নিয়মিত এই দায়িত্ব পালন করছেন রসুল খান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মধুমতী নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয় বর্ণি বাওড়। সময়ের পরিক্রমায় এটি শুধু একটি জলাভূমি নয়, বরং দুই পাড়ের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বাওড়ে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছের বিচরণ রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এ জলাভূমি দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণ করে।
আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার যুগেও বর্ণি বাওড়ে খেয়া নৌকার চলাচল গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক জীবন্ত সাক্ষী। আর সেই ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখে প্রতিদিন নীরবে নিজের জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন বাকপ্রতিবন্ধী মাঝি মো. রসুল খান। তাঁর বৈঠার প্রতিটি টানে যেন ফুটে ওঠে সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা ও গ্রামবাংলার চিরচেনা জীবনচিত্র।
NGS/MMH