1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বেলাবোতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ‘আদর্শ গ্রাম’ হলেও সরকারি হয়নি টিপনা শেখ আমজাদ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিজস্ব অর্থায়নে দুই সড়ক সংস্কার করলেন ডুমুরিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহজাহান জমাদ্দার খেলাধুলায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে নড়াগাতীর ছয় ইউনিয়নের স্কুলে ফুটবল বিতরণের উদ্যোগ নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে এমপি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মান বজায় রাখার নির্দেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনে তৃতীয়বার মুন্সী মানিক মিয়া ডিগ্রি কলেজের সভাপতি মনোনীত মুন্সী জাহিদুর রহমান দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয়, সুসময়ে উপেক্ষিত রাজাপুরের যুবদল কর্মী দুই সহোদরের আক্ষেপ চট্টগ্রামের বন্যার্তদের পাশে জাতীয় ইমাম পরিষদ, বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় ত্রাণ বিতরণ কালিয়া উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত সাংবাদিক মো. শিহাব উদ্দিন: সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নিরন্তর পথচলা

বর্ণি বাওড়ে এখনো চলে খেয়া, বৈঠা হাতে রসুলের জীবনসংগ্রাম

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ৬৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

মো. শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

সময়ের সঙ্গে পাল্টে গেছে গ্রামবাংলার যোগাযোগব্যবস্থা। কাঁচা রাস্তার জায়গায় হয়েছে পাকা সড়ক, সেতু-কালভার্টে সহজ হয়েছে চলাচল। তবুও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি বাওড়ে এখনো মানুষের ভরসা একটি খেয়া নৌকা। সেই নৌকার বৈঠা হাতে প্রতিদিন জীবনসংগ্রামে নেমে পড়েন বাকপ্রতিবন্ধী মাঝি মো. রসুল খান।

বর্ণি ও কুশলী ইউনিয়নের মানুষের জন্য বাওড়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের পথ। বিশেষ করে স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও হাটে যাওয়া মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এই খেয়া নৌকা।

বর্ণি ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. রসুল খান দীর্ঘদিন ধরে খেয়া চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন বৈঠা হাতে মানুষকে নিরাপদে পারাপার করান তিনি। প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে ১০ টাকা ভাড়া নেন। প্রতিদিন খেয়া চালিয়ে তার আয় হয় গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, যা দিয়েই চলে তার সংসার।

স্থানীয়রা জানান, সপ্তাহে দুই দিন কুশলী হাট বসে। ওই দুই দিনে যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রসুল খানের আয়ও কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে বছরের অন্যান্য সময় আয় সীমিত থাকায় সংসার চালাতে তাকে নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এই পথে কালাম শেখ, হাশেম ও কায়সারসহ কয়েকজন মাঝি খেয়া চালাতেন। সময়ের ব্যবধানে তারা সরে গেলেও বর্তমানে একাই নিয়মিত এই দায়িত্ব পালন করছেন রসুল খান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মধুমতী নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয় বর্ণি বাওড়। সময়ের পরিক্রমায় এটি শুধু একটি জলাভূমি নয়, বরং দুই পাড়ের মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বাওড়ে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছের বিচরণ রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এ জলাভূমি দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণ করে।

আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার যুগেও বর্ণি বাওড়ে খেয়া নৌকার চলাচল গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক জীবন্ত সাক্ষী। আর সেই ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখে প্রতিদিন নীরবে নিজের জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন বাকপ্রতিবন্ধী মাঝি মো. রসুল খান। তাঁর বৈঠার প্রতিটি টানে যেন ফুটে ওঠে সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা ও গ্রামবাংলার চিরচেনা জীবনচিত্র।

NGS/MMH

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park