
রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় জাল টাকার ব্যবসা নিয়ে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অডিওতে যার নাম উঠে এসেছে, তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, কাউকে এলাকায় আনার উদ্দেশ্যেই তিনি ওই ধরনের কথা বলেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাইরাল হওয়া কথোপকথনের সঙ্গে যার নাম জড়িয়েছে তিনি মো. বাদশা মিয়া হাওলাদার। তিনি উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের পালট এলাকার মৃত কাঞ্চন হাওলাদারের ছেলে এবং ৫১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী।
অভিযোগ রয়েছে, সৈকত নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সময় বাদশা মিয়া জাল টাকার ব্যবসা শুরু করার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। পরে ওই কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, বাদশা মিয়া একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় বিষয়টি প্রকাশের পর বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের লোকজন তথ্য সংগ্রহের জন্য বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
তবে জাল টাকার ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. বাদশা মিয়া হাওলাদার। তিনি বলেন, “আমার পরিবারকে এক ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিরক্ত করছিল। তাকে আমার এলাকায় আনার উদ্দেশ্যে আমি মোবাইল ফোনে ওই ধরনের কথা বলেছি। আমি কখনোই জাল টাকার ব্যবসা বা কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিউটি আক্তার বলেন, “বাদশা মিয়ার এমন কর্মকাণ্ডের কারণে আমাদেরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মামলা বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
NGS/MMH